“সংসার চালাবো কী করে?” পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে রাস্তায় বসে আন্দোলন, বেহাল দশায় চরম ক্ষোভ শিক্ষকদের

বিকাশভবন অভিযানের ডাক দিয়ে ফের আন্দোলনের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতার সল্টলেক করুণাময়ী চত্বর। বকেয়া বেতন বৃদ্ধি, বৈষম্য দূরীকরণ এবং দ্রুত নিয়োগের দাবিতে সোমবার রাজপথে নেমে বিক্ষোভ দেখালেন চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকরা। আইসিটি (ICT) ঐক্যমঞ্চের ব্যানারে আয়োজিত এই বিক্ষোভে সামিল হওয়া শিক্ষকদের দাবি, অবিলম্বে ষষ্ঠ ও সপ্তম ফেজের শিক্ষকদের সরাসরি সরকারি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করতে হবে এবং আগের ফেজের শিক্ষকদের মতো সমান সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে বিকাশভবনের দিকে এগোতে গেলে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা, যার ফলে মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় গোটা এলাকা।

বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট অভিযোগ, পূর্ববর্তী প্রথম থেকে পঞ্চম ফেজ পর্যন্ত নিযুক্ত শিক্ষকদের সরকারি নিয়ম মেনে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দেওয়া হয় এবং সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়। অথচ ঠিক একই ধরনের ও সমপরিমাণ কাজ করেও বর্তমান ফেজের শিক্ষকরা পাছেন মাত্র ৬৮০০ থেকে ৭০০০ টাকা। এই সামান্য টাকায় বর্তমান বাজারে সংসার চালানো যে কতটা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, তা ক্ষোভের সঙ্গে তুলে ধরেন এক আন্দোলনকারী শিক্ষক। তাঁর কথায়, প্রতিদিন যাতায়াতের গাড়ী ভাড়াই চলে যায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। ফলে এই বেতনে জীবনযাপন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্য এক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত বছর ঠিক এই সময়ে তাঁদের ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে তা চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত চলে। কিন্তু সরকারের পটপরিবর্তন ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে মে মাস থেকে আজ পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্থবিরতা নেমে এসেছে। অবিলম্বে এই দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে তাঁদের স্কুলে বহাল করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। হাতে পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে এ দিন রাস্তায় বসে পড়েন আন্দোলনকারীরা। করুণাময়ী মেট্রো স্টেশনের কাছে পুলিশ তাঁদের পথ আটকানোর চেষ্টা করলে দুপক্ষের মধ্যে তুমুল ধস্তাধস্তি শুরু হয়। রাস্তায় শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা, যার জেরে তীব্র যানজটে কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে ওই চত্বর। শেষ পর্যন্ত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জোরপূর্বক আন্দোলনকারীদের হঠানোর চেষ্টা চালায়।