সংসদ থেকে সরাসরি আকাশবাণী ভবন, দিল্লি পুলিশকে ধপকা দিয়ে ফের বড় মাস্টারস্ট্রোক রাহুল গান্ধীর!

সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশন—চারিদিকে ভারী ব্যারিকেডিং আর পুলিশের কড়া পাহারা ভেদ করে ফের এক নাটকীয় পদক্ষেপে সবাইকে চমকে দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশ যখন নীতি আয়োগের কাছে বাধা দেয়, তখন আচমকাই নাটকীয় মোড় নেয় পরিস্থিতি। রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী পুলিশকে কার্যত ‘ধপ্পা’ দিয়ে সটান আকাশবাণী ভবনে প্রবেশ করেন এবং দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা ধরে সেখানে অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যান।

গত দুই মাসে এটি তৃতীয়বার, যখন রাহুলের এই ফ্ল্যাশ প্রোটেস্ট বা আচমকা প্রতিবাদ কৌশল কেবল দিল্লি পুলিশকেই নয়, খোদ দলের অনেক নেতাকেও হতবাক করে দিয়েছে। এর আগে জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে এবং গত মাসে সংসদ মার্গ থানায় প্যালেট গান পিড়িত এক ছাত্রকে নিয়ে আকস্মিক বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার ইসিআই (ECI) হেডকোয়ার্টারের দিকে মিছিল চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির মাঝেই রাহুল ব্যারিকেডে চড়ে তেরঙ্গা ওড়ান। এরপর পুলিশ যখন কংগ্রেস নেতাদের বাসে তুলতে শুরু করে, তখনই রাহুল প্রিয়াঙ্কাকে ইশারা করে আকাশবাণী ভবনের দিকে দৌড় দেন।

নিরাপত্তা রক্ষীদের বাধা উপেক্ষা করে ভাই-বোন দুজনেই ব্রডকাস্টিং হাউসের ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং একটি গাছের নিচে বসে পড়ে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ চালান। কেসি ভেনুগোপাল, পবন খেরা ও ইমরান প্রতাপগড়ীর মতো শীর্ষ নেতারাও দেওয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনড় অবস্থানে অনশনরত নেতাদের জন্য এনার্জি ড্রিংকস ও রোল আনিয়ে দেওয়ায় তৈরি হয় নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। অবশেষে রাত আটটার পর পুলিশ কড়া হাতে চত্বর খালি করে এবং ধৃত নেতাদের কিংসওয়ে ক্যাম্প থানায় নিয়ে গিয়ে রাত ১০টায় মুক্তি দেয়।