সংসদে নজিরবিহীন তুলকালাম! স্পিকারকে লক্ষ্য করে কাগজ প্রদর্শন, বহিষ্কৃত ৮ বিরোধী সাংসদ!

বাজেট অধিবেশন চলাকালীন নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার সাক্ষী থাকল লোকসভা। স্পিকারের চেয়ার লক্ষ্য করে কাগজ ছোড়ার অভিযোগে কংগ্রেস ও সিপিআই(এম)-এর মোট ৮ জন সাংসদকে সাসপেন্ড করা হলো। এই ঘটনাকে সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে “চরম অপমান” বলে অভিহিত করেছেন স্পিকার। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই সাংসদদের সাসপেন্ড করার প্রস্তাব আনলে তা গৃহীত হয়, যার জেরে দিনভর মুলতুবি হয়ে যায় অধিবেশন।
সাসপেন্ড হওয়া সাংসদদের তালিকায় রয়েছেন কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা হিবি ইডেন, অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং, মানিকম টাগোর এবং সিপিআই(এম)-এর এস ভেঙ্কটেশন-সহ আরও চারজন। বিজেপির অভিযোগ, বিরোধীরা পরিকল্পিতভাবে অধিবেশন ভণ্ডুল করতে চেয়ারের অমর্যাদা করেছেন। স্পিকার স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংসদের গরিমা ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনো আচরণ বরদাস্ত করা হবে না।
এই চরম উত্তেজনার মূলে রয়েছে প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম এম নারাভানের একটি অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা। লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এই প্রসঙ্গটি তোলার চেষ্টা করলে ট্রেজারি বেঞ্চ তীব্র আপত্তি জানায়। অভিযোগ ওঠে, রাহুল গান্ধী সংসদীয় বিধি লঙ্ঘন করে স্পর্শকাতর বিষয় উত্থাপন করেছেন। এরপরই বিরোধীদের বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং কাগজ ছোড়ার মতো ঘটনা ঘটে।
এই কড়া পদক্ষেপের প্রতিবাদে লোকসভার মকর দ্বারে ধরণায় বসেন রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। বিরোধী শিবিরের দাবি, কন্ঠরোধ করতেই এই অগণতান্ত্রিক সাসপেনশন। একদিকে আট সাংসদের বহিষ্কার এবং অন্যদিকে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিরোধীদের সরব হওয়া—সব মিলিয়ে রাজধানীর রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। আগামী বুধবার বেলা ১১টায় ফের বসবে অধিবেশন, তবে এই সংঘাত সহজে মিটবে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।