সংসদে চরম উত্তেজনা! মহিলা সাংসদদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে সাসপেন্ড তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়!

মহিলা সাংসদদের প্রতি অত্যন্ত কুরুচিকর, অসংসদীয় মন্তব্য এবং নারীবিদ্বেষী আচরণের গুরুতর অভিযোগে লোকসভার চলতি অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য বরখাস্ত হলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সংসদের মৌখিক সমর্থনের ভিত্তিতে এবং স্পিকারের নির্দেশিকায় এই কড়ায় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে চলতি বাদল অধিবেশনের বাকি দিনগুলিতে আর লোকসভার কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না তিনি।
ঠিক কী ঘটেছিল সংসদে?
সেন্ট্রাল হলে বাক-বিতণ্ডা: বুধবার লোকসভার অধিবেশন বিরোধীদের হট্টগোলের জেরে একবার মূলতবি হওয়ার পর সেন্ট্রাল হলে প্রাক্তন তৃণমূলী তথা বর্তমান ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-র সাংসদদের সঙ্গে তুমুল বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
মহিলা সাংসদদের অভিযোগ: এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায় এবং মিতালি বাগের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাক্যবিনিময় ও বচসা শুরু হয়। পরবর্তীতে স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয় যে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সদনের ভেতরে ও বাইরে অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেছেন। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবকে কটূক্তি করার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
সাসপেনশন প্রস্তাব পাস: দুপুর ২টায় লোকসভার অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে স্পিকারের আসনে থাকা টিডিপি সাংসদ কৃষ্ণপ্রসাদ তেনেটি জানান যে, কল্যাণের এই আচরণ সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে। এর পরেই সংসদীয় বিষয়ক রাষ্ট্রীয় মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল তাঁকে অধিবেশনের বাকি দিনগুলির জন্য সাসপেন্ড করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। বিরোধী সাংসদদের স্লোগানের মাঝেই ধ্বনিভোটে এই প্রস্তাব সর্বসম্মতিতেই পাশ হয়ে যায় এবং তাঁকে অবিলম্বে সংসদ ভবন চত্বর ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জেরে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি অংশ ভেঙে ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দিয়ে লোকসভায় আলাদা বসছেন। অন্যদিকে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রতি অনুগত রয়েছেন।
এই ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, “উনি একজন স্বভাবজাত নারীবিদ্বেষী মানুষ। সংসদের ভেতরে ও বাইরে উনি প্রতিনিয়ত মহিলাদের অসম্মান করেন।” অন্যদিকে, সাসপেনশনের আদেশের পর তৃণমূলের কয়েকজন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে স্পিকারের ঘরে যান এবং তাঁর বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।