সংসদেই কণ্ঠরোধ? আম আদমি পার্টির ‘ডেপুটি লিডার’ পদ থেকে সরলেন রাঘব, নেপথ্যে কি বিজেপি-ভীতি?

একসময় ছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়ালের অতি ঘনিষ্ঠ এবং দলের ‘পোস্টার বয়’। কিন্তু আজ সেই রাঘব চাড্ডার বিরুদ্ধেই খড়্গহস্ত আম আদমি পার্টি (AAP)। রাজ্যসভার ডেপুটি লিডারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর রাঘবের বিস্ফোরক অভিযোগ— “আমার কণ্ঠরোধ করা হয়েছে।” পাল্টা আপ নেতৃত্বের তোপ, “যে ভয় পেয়েছে, সে মরে গিয়েছে!”

গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত: শুক্রবার সকালে একটি ভিডিও বার্তায় রাঘব চাড্ডা দাবি করেন, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা নিয়ে কথা বলায় তাঁকে চুপ করিয়ে দিচ্ছে নিজের দলই। তিনি জানান, গিগ ওয়ার্কার বা বিমানের টিকিটের মতো জনহিতকর ইস্যু তুলে ধরা কি অপরাধ?

পাল্টা আক্রমণে সৌরভ ও অতিশি: রাঘবের এই ভিডিওর পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় পালটা আক্রমণে নামেন আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ এবং অতিশি। তাঁদের অভিযোগের তিরে বিদ্ধ রাঘব:

  • বিজেপি ভীতি: আপ-এর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বড় কোনো ইস্যুতে মুখ খুলছেন না রাঘব। এমনকি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ সংক্রান্ত প্রস্তাবেও সই করতে অস্বীকার করেছেন তিনি।

  • বিপদের দিনে পলায়ন: অতিশি ও সৌরভের বিস্ফোরক দাবি, যখন দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তখন রাঘব ‘চোখের চিকিৎসা’র বাহানায় লন্ডনে গিয়ে লুকিয়ে ছিলেন।

  • সফট পিআর বনাম রাজনীতি: দলের অভিযোগ, সংসদে গিগ ওয়ার্কার বা শিঙাড়া নিয়ে কথা বলে ‘সফট পিআর’ করছেন রাঘব, অথচ দেশের বড় সমস্যাগুলো এড়িয়ে যাচ্ছেন।

কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত? রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৪ সালে কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তারের সময় রাঘবের রহস্যময় নীরবতা এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কেজরিওয়াল খালাস পাওয়ার পরও কোনো প্রতিক্রিয়া না দেওয়াটাই কাল হয়েছে তাঁর। দলের একাংশ মনে করছে, রাঘব এখন মোদী সরকার ও বিজেপিকে ভয় পাচ্ছেন, যা আপ-এর লড়াকু ভাবমূর্তির পরিপন্থী।

এডিটরস নোট: দিল্লির পর এবার কি তবে পঞ্জাবের রাজনীতিতেও ভাঙনের সুর? রাঘব চাড্ডাকে ঘিরে আপ-এর এই কড়া অবস্থান জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে। ‘কেজরিওয়ালের সেনা’ থেকে রাঘবের এই ‘বিদ্রোহী’ হয়ে ওঠা আম আদমি পার্টির জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy