ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা! পক্ষপাতিত্ব, নির্বাচনী জালিয়াতির তদন্তে বাধা এবং ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট বা অপসারণের প্রস্তাব পেশ করলেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিরোধীরা। লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে মোট ১৯৩ জন বিরোধী সাংসদ এই নোটিসে স্বাক্ষর করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বেই মূলত এই অপসারণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিরোধীদের আনা নোটিসে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মোট ৭টি গুরুতর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘ দিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে সরব ছিলেন এবং তাঁকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করেছেন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের প্রক্রিয়াটি সুপ্রিম কোর্টের কোনো বিচারপতিকে সরানোর প্রক্রিয়ার মতোই জটিল। সংবিধানের ৩২৪(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় সংসদের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতিতে ভোটাভুটি এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।
কোনো মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পেশের ঘটনা ভারতে এই প্রথম। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপ কেন্দ্রের শাসকদলের ওপর বিরোধীদের চাপ সৃষ্টির একটি বড় কৌশল। এখন দেখার বিষয়, সংসদীয় স্তরে এই প্রস্তাব কতটা জল গড়ায় এবং সরকার এর কী প্রতিক্রিয়া দেয়।