২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বঙ্গ রাজনীতির সমীকরণ মেলাতে কোমর বেঁধে নেমেছে বিজেপি। একদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন কোচবিহার থেকে হুঙ্কার দিচ্ছেন, ঠিক তখনই কলকাতায় দাঁড়িয়ে মুসলিম ভোট নিয়ে এক অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
শুভেন্দুর সেই ‘বিস্ফোরক’ বার্তা: এদিন একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি মুসলিম ভোটারদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দেন। তিনি বলেন, “আপনারা কি তৃণমূলের এই একাধিপত্যকে শূন্য করে দিতে পারেন না?” শুভেন্দুর এই বার্তার নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর কৌশল। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, মুসলিম ভোট মানেই কেবল তৃণমূলের একচেটিয়া সম্পত্তি নয়।
কেন এই ইঙ্গিত? শুভেন্দু অধিকারীর মতে, গত কয়েকটি নির্বাচনে দেখা গেছে যে মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের বড় একটা অংশ একতরফাভাবে তৃণমূলের দিকে গিয়েছে। তিনি দাবি করেন:
ভয় ও বিভ্রান্তি: তৃণমূল মুসলিমদের মধ্যে বিজেপির নামে ভয় দেখিয়ে ভোট আদায় করে।
উন্নয়নের প্রশ্ন: সংখ্যালঘু এলাকায় উন্নয়নের নিরিখে তৃণমূল আসলে কতটা কাজ করেছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
শূন্য করার চ্যালেঞ্জ: শুভেন্দু চাইছেন মুসলিম ভোটাররা যেন তৃণমূলের ওপর থেকে আস্থা সরিয়ে অন্যান্য বিকল্পের কথা ভাবেন, যা পরোক্ষভাবে বিজেপিকেই সুবিধা দেবে।
কৌস্তভ ও শুভেন্দুর সুর একই তারে: ব্যারাকপুরের প্রার্থী কৌস্তভ বাগচীও আজ প্রায় একই সুরে কথা বলেছেন। শুভেন্দুর এই ‘শূন্য করে দেওয়ার’ তত্ত্ব আসলে তৃণমূলের শক্তিশালী ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরানোর এক পরিকল্পিত ব্লু-প্রিন্ট। শুভেন্দু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ২০২৬-এ কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের ভোটকে আর ‘নিশ্চিত’ হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না।
বিশেষ পর্যবেক্ষণ: রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুভেন্দু অধিকারী এখন আর কেবল হিন্দুত্বের তাস খেলছেন না, বরং তৃণমূলের ‘ভোট মেশিন’ স্তব্ধ করতে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করার কৌশল নিয়েছেন।





