পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এবার ইমাম ও মোয়াজ্জেমদের ভাতা বৃদ্ধি না হওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র খোঁচা দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটারদের ওপর থেকে তৃণমূলের আধিপত্য যে আলগা হচ্ছে, তা মুখ্যমন্ত্রী বুঝে গিয়েছেন। আর সেই কারণেই তাঁদের প্রাপ্য ভাতা নিয়ে উদাসীন থাকছে সরকার।
অধীরের ‘ভয়’ তত্ত্ব: সংখ্যালঘু ভোটকে কেন্দ্র করে চিরকালই তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যে এক অদৃশ্য লড়াই থাকে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই অধীর চৌধুরী বলেন:
“মুখ্যমন্ত্রী বিলক্ষণ বুঝেছেন যে সংখ্যালঘু মানুষ আর আগের মতো দু’হাত উজাড় করে তৃণমূলের পাশে নেই। আর সেই কারণেই ইমাম ও মোয়াজ্জেমদের জন্য কোনো বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি।”
অধীরের মতে, এটি আসলে এক ধরণের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা উপক্ষো। তিনি দাবি করেন, যে মানুষগুলো একসময় তৃণমূলের জয়ের মূল কারিগর ছিল, আজ তাঁদের অবজ্ঞা করা হচ্ছে।
বাড়ছে তৃণমূল স্তরের ক্ষোভ: অধীর চৌধুরীর এই মন্তব্য কেবল রাজনৈতিক বয়ান নয়, বরং রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির প্রতিফলন। দীর্ঘ সময় ধরে ভাতা না বাড়ায় ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ইমাম ও মোয়াজ্জেমরা সংগঠিতভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও তাঁদের ভাতা সেই তিমিরেই রয়ে গিয়েছে, যা নিয়ে ইমাম সংগঠনগুলির মধ্যে অসন্তোষ তীব্র হচ্ছে।
শাসকদলের প্রতিক্রিয়া: তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবশ্য অধীর চৌধুরীর এই দাবিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। শাসকদলের মুখপাত্রদের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন যা করেছেন তা কোনো বিরোধী দল পারেনি। তবে ভোটের আগে এই ‘ভাতা’ ও ‘সংখ্যালঘু ভোট’ নিয়ে অধীরের তোপ যে শাসকদলের জন্য অস্বস্তিকর, তা মানছেন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।