শ্লীলতাহানি নাকি ধর্ষণের চেষ্টা? দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালতের এই রায়ে তোলপাড় আইনিমহল!

গভীর রাতে কোনো মহিলার ঘরে ঢুকে তাঁর পোশাক টেনে তোলার মতো ঘটনা কি আইনগতভাবে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ বলে গণ্য হতে পারে? দীর্ঘ ২৬ বছরের এক দীর্ঘ ও জটিল আইনি লড়াই শেষে এই বিষয়ে এক চাঞ্চল্যকর পর্যবেক্ষণ সামনে এনেছে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট। আদালতের স্পষ্ট বার্তা, ভারতীয় দণ্ডবিধি (IPC) অনুযায়ী এই ধরনের ঘটনাকে সরাসরি ‘ধর্ষণ’ বা ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ (Attempt to Rape) বলা চলে না। নিম্ন আদালতের দেওয়া চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা সম্পূর্ণ বাতিল করে উচ্চ আদালত এই ঘটনাটিকে মূলত মহিলার শ্লীলতাহানি এবং অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের মামলা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের বিচারপতি প্রদীপ কুমার শ্রীবাস্তবের সিঙ্গেল বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছেন। হাইকোর্টের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ধর্ষণের চেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধ প্রমাণিত হতে গেলে এমন কোনো প্রত্যক্ষ ও স্পষ্ট শারীরিক পদক্ষেপ বা ওভার্ট অ্যাক্ট (Overt Act) থাকা বাধ্যতামূলক, যা সরাসরি অপরাধ সংঘটিত করার একেবারেই অন্তিম পর্যায়ে বা কাছাকাছি পৌঁছায়। কেবল কোনো মহিলার ঘরে ঢুকে জোর করে পোশাক তোলার মতো গর্হিত ঘটনা আইনি পরিভাষায় কঠোর ‘ধর্ষণের চেষ্টা’র ধারার আওতায় পড়ে না, বরং তা আইনের চোখে শ্লীলতাহানির অপরাধ হিসেবেই গণ্য হওয়া উচিত।
পুরো ঘটনাটির সূত্রপাত ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বর মাসে। পূর্ব সিংভূমের চকুলিয়া থানার অন্তর্গত এলাকার বাসিন্দা এক নির্যাতিতা মহিলা থানায় এই মর্মে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন যে, ২৬ ডিসেম্বর গভীর রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি জোর করে তাঁর ঘরে প্রবেশ করে এবং তাঁকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে শরীরের পোশাক টেনে তোলার চেষ্টা চালায়। ঘটনার পর পুলিশের দীর্ঘ তদন্ত শেষে নিম্ন আদালতে চার্জশিট পেশ করা হয়। এর দীর্ঘ সাত বছর পর, অর্থাৎ ২০০৬ সালে ঘাটশিলা সেশনস কোর্ট অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল।
নিম্ন আদালতের এই কঠোর রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পরবর্তীতে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের পুরনো রায় খারিজ করে অভিযুক্তকে মূল ধর্ষণের চেষ্টার ধারা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। তবে আদালত জানিয়েছে, যেহেতু বিচার চলাকালীন অভিযুক্ত ব্যক্তি ইতিমধ্যেই প্রায় আট মাস কারাবাস বা হাজতবাস করেছেন, তাই ন্যায়ের স্বার্থে সেই সময়টুকুই এই অপরাধের জন্য যথেষ্ট শাস্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। গত ৩১ আগস্ট এই মামলার মূল শুনানি শেষ হওয়ার পর চলতি মাসের ৭ তারিখে আদালতের এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ্যে আসে। আদালতের এই অভিনব ও চাঞ্চল্যকর পর্যবেক্ষণ দেশের আইনি মহলে নতুন করে জোরদার বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।