পুজোর আগেই কেল্লাফতে! ষষ্ঠীর আগেই ফের অতিরিক্ত ছুটির ঘোষণা, কোন কোন এলাকায় বন্ধ থাকবে স্কুল-কলেজ-অফিস?

দুর্গাপুজোর আনন্দ আর উৎসবের আমেজের মাঝেই রাজ্যবাসীর জন্য ফের এক বিরাট খুশির খবর। পুজোর ছুটির রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্যবাসীর ঝুলিতে আসতে চলেছে আরও একটি অতিরিক্ত ছুটি। আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের সমস্ত স্কুল-কলেজ, সরকারি অফিস ও আদালত বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। হঠাৎ করে এই ছুটির ঘোষণা সামনে আসতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে দারুণ কৌতূহল ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। ছুটির এই আকস্মিক ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে কর্মজীবীরা।
আসলে, ছুটির নেপথ্যে রয়েছে নির্বাচনী ডঙ্কা। গত সোমবার ভারতের নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর এই দুটি নির্দিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ভোট গণনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে আগামী ৯ অক্টোবর। গণতন্ত্রের এই মহা উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ভোটগ্রহণের দিন অর্থাৎ ৬ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিশেষ ছুটির নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
এই উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক পারদ ইতিমধ্যেই তুঙ্গে উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম—এই দুটি হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এর মধ্যে নন্দীগ্রাম তাঁর নিজের অত্যন্ত দুর্গ ও শক্তঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তৎকালীন শাসকদলের হেভিওয়েট চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে তিনি যেমন ওই কেন্দ্র থেকে লড়েছিলেন, তেমনই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে তাঁকে ভবানীপুর থেকেও প্রার্থী করেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। পরবর্তীতে সেই নন্দীগ্রাম কেন্দ্রেই উপনির্বাচনের দামামা বেজে ওঠায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসার পরই স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রের ভৌগোলিক সীমানার অন্তর্গত সমস্ত স্কুল, কলেজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক এবং সরকারি-বেসরকারি অফিস সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। ভোটদানের এই প্রক্রিয়ায় যাতে সাধারণ মানুষ ও ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেন, সেই কারণেই এই অতিরিক্ত ছুটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুজোর ঠিক মুখে এই আকস্মিক ও অতিরিক্ত ছুটির সুবাদে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষজন যে বাড়তি স্বস্তি পেতে চলেছেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।