ইরান বনাম আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাত এবার এক ভয়ঙ্কর ও নজিরবিহীন মোড় নিল। মধ্যপ্রাচ্যের সীমা ছাড়িয়ে এই যুদ্ধের আঁচ পৌঁছে গেল দক্ষিণ এশিয়ায়। শ্রীলঙ্কার উপকূলে একটি ইরানি রণতরীকে ধ্বংস করল মার্কিন সাবমেরিন, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৮০ জন। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর পরেও তেহরান যে নতিস্বীকার করতে রাজি নয়, এই রণতরী মোতায়েন ছিল তারই প্রমাণ।
যুদ্ধের পঞ্চম দিনে প্রথমবার ইরানের প্রতিবেশী দেশ তুরস্কের দিকে ধেয়ে আসে একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল। ন্যাটোর আকাশসীমা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সময়মতো সেটি ধ্বংস করলেও, এই ঘটনায় ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তির দেশ তুরস্ক সরাসরি এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল। এর ফলে গোটা ইউরোপ ও এশিয়া জুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাবে কার্যত অচল বিশ্ব অর্থনীতি। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে কাতারের আল-উদেইদ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পর দোহায় মার্কিন দূতাবাস সংলগ্ন এলাকা থেকে সাধারণ মানুষদের সরিয়ে নিচ্ছে কাতার সরকার। সৌদি আরব ও কুয়েতেও মার্কিন দূতাবাসগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বিপজ্জনক এই পরিস্থিতি থেকে নিজেদের নাগরিকদের সরিয়ে নিতে তৎপর ইউরোপ। ওমানের রাজধানী মাসকাট থেকে জার্মানির প্রথম উদ্ধারকারী বিমান ‘লুফৎহানসা’ রওনা দিয়েছে। বৃদ্ধ, অসুস্থ এবং গর্ভবতী মহিলাদের অগ্রাধিকার দিয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে জার্মান সরকার।