শ্রীরামপুরের সভা থেকে ‘আজাদি স্লোগান’! দেউলিয়া রাজনীতি ও বাম-তৃণমূল আঁতাত নিয়ে মমতাকে তুলোধনা মুখ্যমন্ত্রীর

শনিবার শ্রীরামপুরের কোর্ট ময়দানের সভা থেকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও একাধিক ইস্যুতে রাজ্যের বিরোধী শিবির তথা তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর রবিবারের এক সাংবাদিক বৈঠকে তার পাল্টা অত্যন্ত চড়া সুরে আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সিপিআইএম ও কংগ্রেসের সঙ্গে মমতার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সখ্য, বিধানসভার অন্দরের বোঝাপড়া এবং শ্রীরামপুরের সভা থেকে ওঠা ‘আজাদি স্লোগান’ প্রসঙ্গ টেনে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে পুরনো রাজনৈতিক ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, যে সিপিআইএমের অপশাসন ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম হয়েছিল, সাঁইবাড়ি, মরিচঝাঁপি থেকে শুরু করে নেতাই-নন্দীগ্রামের মতো ঘটনা ঘটিয়েছিল যে দল, আজ রাজনৈতিক অস্তিত্ব বাঁচাতে সেই সিপিএমের সঙ্গেই হাত মিলিয়েছে তৃণমূল। পাশাপাশি, একসময়ে কংগ্রেস দল থেকে যাঁকে ‘ঘাড় ধাক্কা’ দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছিল, সেই দুর্দিনে ভারতরত্ন অটলবিহারী বাজপেয়ী তাঁকে রাজ্যে কমিউনিস্ট শাসন শেষ করার জন্য আশ্রয় দিয়েছিলেন, তাও মনে করিয়ে দেন তিনি। শুধু তাই নয়, বিধানসভায় বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত বিলের সময় ডিটিএমসি এবং সিপিআইএমের গোপন আঁতাত এবং একে অপরকে বাঁচানোর চেষ্টা প্রকাশ্যে চলে এসেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শ্রীরামপুরের জনসভার লোকসংখ্যা এবং মমতার বক্তব্যকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ফাঁকা মাঠে সভা হয়েছে, যেখানে পুলিশ ও মিডিয়া বাদ দিলে সমর্থক খুঁজে পাওয়া দায়। আর সেই সভা থেকেই টুকরে টুকরে গ্যাংয়ের মতো ‘আজাদি স্লোগান’ দেওয়া হয়েছে।” নির্বাচন কমিশনকে জড়িয়ে মিথ্যা প্রচার এবং জনগণের রায়কে অস্বীকার করে রাজ্যের ভেঙে পড়া সাম্রাজ্যকে বাঁচানোর জন্যই এই ধরনের ভিত্তিহীন হুঙ্কার দেওয়া হচ্ছে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সব মিলিয়ে, রাজ্য রাজনীতির এই তীব্র বাকযুদ্ধ বর্তমানে চরমে উঠেছে।