শ্রীরামপুরের শ্রমজীবী হাসপাতালে ধুন্ধুমার, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে লাইভ বিক্ষোভ, উত্তপ্ত পরিস্থিতি

চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগে হুগলির শ্রীরামপুরের শ্রমজীবী হাসপাতালে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হলো। এক রোগীর পরিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করে তুমুল বিক্ষোভ দেখায়। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ওঠা গাফিলতির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
কী ঘটেছিল?
জানা গেছে, সম্প্রতি শ্রমজীবী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তার পরিবার চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তোলে। তাদের দাবি, হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীরা রোগীর প্রতি যথাযথ মনোযোগ দেননি এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে গুরুতর ত্রুটি ছিল, যার ফলে রোগীর অবস্থা সংকটজনক হয়েছে।
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, রোগীর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল চত্বরেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাদের ক্ষোভ এতটাই চরমে পৌঁছেছিল যে, তারা ঘটনার প্রতিবাদে সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করে নিজেদের অভিযোগ তুলে ধরেন এবং হাসপাতালের অব্যবস্থা তুলে ধরেন। এই লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে দ্রুত ঘটনাটি জনসাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অস্বীকার ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
পরিবারের বিক্ষোভ ও অভিযোগের মুখে শ্রমজীবী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোগীকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল না। রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ, এমনটাই দাবি কর্তৃপক্ষের।
উত্তেজনা ও পুলিশি হস্তক্ষেপ?
বিক্ষোভের কারণে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিষেবা বিঘ্নিত হয় এবং কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রোগীর পরিবার ও হাসপাতালের কর্মীদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসনের বা পুলিশের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়েছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়।
এই ঘটনা আবারও রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসার মান এবং রোগীর পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সরাসরি বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘটনা বুঝিয়ে দিল যে, মানুষের মধ্যে হাসপাতাল পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ কতটা তীব্র হতে পারে। ঘটনার জেরে শ্রমজীবী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এখন এই অভিযোগের জবাবদিহি করতে হবে এবং তাদের স্বচ্ছতা প্রমাণ করতে হবে।