“দিদির কেন্দ্রে দাদা”- ভবানীপুরে প্রচারে মিঠুন, তৃণমূলের ‘বাঙালি হেনস্থা’ অভিযোগ খারিজ

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে বাংলায়। এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরে প্রচারের ময়দানে নামছেন বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। ‘দিদির কেন্দ্রে দাদা’ শীর্ষক এই কর্মসূচিতে তিনি উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার দুটি করে মোট চারটি বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে সাংগঠনিক বৈঠক করবেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিজেপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের কেন্দ্রে রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।
“দল যেখানে বলবে, সেখানেই যাবো”: প্রচারে নামার আগে মিঠুন
বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার (২৪শে জুলাই) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, “কার কেন্দ্র, কোথায় কেন্দ্র, আমি জানি না। দল আমাকে যেখানে যেতে বলবে আমি সেখানেই যাব। আমি সব জায়গায় যেতে রাজি আছি। দল থেকে যে কাজ আমাকে দেওয়া হয়েছে সেই কাজ আমি শেষ করব।” তাঁর এই মন্তব্য বিজেপির নির্বাচনী কৌশলে তারক প্রচারকদের গুরুত্বের বিষয়টিকেই তুলে ধরছে।
‘বাঙালি হেনস্থা’ অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন মিঠুন
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে বাঙালি এবং বাংলাভাষীদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। এমনকি অন্যান্য বিরোধী দলগুলিও এই ইস্যুতে সরব হয়েছে। তবে এদিন গিরিশ পার্কে একটি সাংগঠনিক বৈঠকে এসে বিজেপির তারকা নেতা মিঠুন চক্রবর্তী এই অভিযোগ সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিলেন।
মিঠুন চক্রবর্তী নিজে বহু বছর ধরে মুম্বই সহ রাজ্যের বাইরে থাকেন। এই প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “কোথাও এমনটা হচ্ছে না। এটা একেবারে মিথ্যে কথা। আমি নিজে রাজ্যের বাইরে থাকি। বাঙালি বলে আমাকে কোনোদিন অত্যাচারের শিকার হতে হয়নি।” তৃণমূলের এই অভিযোগকে ‘মিথ্যে’ বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি শাসকদলকে অস্বস্তিতে ফেললেন।
এনআরসি এবং ‘বিসর্জন’ হুঙ্কার
তৃণমূলের অভিযোগ নস্যাৎ করার পাশাপাশি এদিন মিঠুন চক্রবর্তী রাজ্য সরকারকেও নানা ইস্যুতে কটাক্ষ করেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল এনআরসি (NRC) প্রসঙ্গ। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটার বাসিন্দা অঞ্জলি শীলকেও অসম সরকারের তরফে নাগরিকত্ব প্রমাণের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। যদিও ওই গৃহবধূ সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন, তবুও বিষয়টি নিয়ে বিজেপির ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারকে বিঁধছেন রাজ্যের মন্ত্রীরা। এই প্রসঙ্গে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, “রাজ্যের মন্ত্রীরা তো বলবেন যে এনআরসি ইস্যুতে বিজেপির মুখ পুড়েছে। তাঁরা অনেক কথাই বলবেন। এটা সঠিক নয়।”
আগামী বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বিজেপির সব নেতা, মন্ত্রী এবং কর্মী-সমর্থকদের সংঘবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মহাগুরু। তিনি বলেন, “একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পুরনো কর্মীদের নিয়ে আসতে হবে। আগে পেছনে ছোট বড় কেউ নেই। সব সমান। আমরা তমোঘ্ন ঘোষকে পুরো সাপোর্ট দিচ্ছি। বয়স অল্প তাই একটু ভয় পায়।”
তবে এদিন মিঠুন চক্রবর্তী তার রাজনৈতিক আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন, “এবারে তৃণমূলের বিসর্জন অনিবার্য।” তাঁর এই মন্তব্য আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির আত্মবিশ্বাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর সৃষ্টি করেছে।