উত্তুরে হাওয়ার দাপটে কাঁপছে গোটা বাংলা। জানুয়ারির শুরুতেই শীতের ঝোড়ো ইনিংসে কার্যত জবুথবু জনজীবন। শুধু কলকাতা নয়, জেলায় জেলায় এখন হাড়কাঁপানো ঠান্ডার দাপট। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আজ কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ১.৮ ডিগ্রি কম। দমদমে পারদ আরও নিচে নেমে ১১.৪ ডিগ্রিতে ঠেকেছে এবং সল্টলেকে আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
জেলায় জেলায় শৈত্যপ্রবাহ: দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে ঠান্ডার প্রকোপ আরও ভয়াবহ। বীরভূমের শ্রীনিকেতনে তাপমাত্রা ৫.৬ ডিগ্রিতে নামায় সেখানে কার্যত শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পুরুলিয়া ও শান্তিনিকেতনে পারদ ৮ ডিগ্রির ঘরে ঘোরাফেরা করছে। মুর্শিদাবাদে তাপমাত্রা ছিল ৮.৩ ডিগ্রি এবং দিঘায় ৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আসানসোল, অশোকনগর এবং বহরমপুরেও তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচেই রয়েছে।
উত্তরবঙ্গের হালহকিকত: উত্তুরে হাওয়ার ঝাপটায় কাঁপছে পাহাড় থেকে সমতল। শৈলশহর দার্জিলিঙের তাপমাত্রা ৩.৪ ডিগ্রিতে নেমে গিয়েছে। কোচবিহারে ৭ ডিগ্রি এবং শিলিগুড়ি ও মালদহে পারদ ১০ ডিগ্রির নিচে থাকায় কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষ।
নিম্নচাপের ভ্রুকুটি ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস: শীতের এই দাপটের মধ্যেই দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে একটি গভীর নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। তবে শীতপ্রেমীদের জন্য স্বস্তির খবর হলো, এই নিম্নচাপের সরাসরি কোনো প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের ওপর পড়বে না। এটি পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাবে। ফলে রাজ্যে উত্তুরে হাওয়ার প্রবেশে কোনো বাধা নেই। আবহাওয়াবিদদের মতে, শনিবার পর্যন্ত এই কনকনে ঠান্ডা বজায় থাকবে। তবে রবিবার থেকে তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি আগামী কয়েকদিন ভোর এবং সকালে কুয়াশার দাপট চলবে, যার ফলে দৃশ্যমানতা কমতে পারে। তাই ভোরে পথচলতি মানুষ ও চালকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।