টলিউডে রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় নেমে এল অন্ধকার। আর নেই অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ওড়িশার তালসারি সমুদ্রসৈকতে একটি ধারাবাহিকের শ্যুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হলো তাঁর। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবির হাত ধরে যাঁর জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেই রাজ চক্রবর্তীর প্রিয় অভিনেতার এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে স্তব্ধ গোটা স্টুডিও পাড়া। রাজ চক্রবর্তী থেকে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়— শোকের ছায়া টলিউডের প্রথম সারির পরিচালকদের মনে।
জানা গিয়েছে, রবিবার ওড়িশা-বাংলার সীমান্তে তালসারি সৈকতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শ্যুটিং চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শ্যুটিং শেষ হওয়ার পর বিকেলে রাহুল একা সমুদ্রের জলে নামেন। হঠাৎই বালিতে পা আটকে যাওয়ায় একটি বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় তিনি তলিয়ে যান। সহকর্মী শ্বেতা মিশ্র চিৎকার করে লোক ডাকলে ইউনিটের টেকনিশিয়ানরা তাঁকে উদ্ধার করেন। সংজ্ঞাহীন অবস্থায় দিঘা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট নাগাদ চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিক অনুমান, জলে ডোবার পর আতঙ্কে তাঁর হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
রাহুলের এই অকাল প্রয়াণ কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না রাজ চক্রবর্তী। তাঁর পরিচালিত মেগা-হিট ছবির নায়ক রাহুলের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে রাজ বলেন, “বিশ্বাস করতে পারছি না। বিরসা আর কৌশিকদার সঙ্গেও কথা হলো, আমরা সবাই স্তম্ভিত।” রাহুল শুধু একজন দক্ষ অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন লেখক এবং দারুণ সংবেদনশীল মানুষ। তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার এবং একমাত্র সন্তান সহজকে নিয়ে যখন নতুন করে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখছিলেন অভিনেতা, তখনই নিয়তি সব কেড়ে নিল। সোমবার কাঁথি হাসপাতালে তাঁর ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলার এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের এমন বিদায়ে টলিপাড়া আজ আক্ষরিক অর্থেই অভিভাবকহীন বোধ করছে।