গত সপ্তাহের শেষভাগে ভারতীয় শেয়ার বাজারের পারফরম্যান্স বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সূচক পতনের রেশ সোমবারের লেনদেনেও বজায় থাকার আশঙ্কা প্রবল। শুক্রবার সেনসেক্স ১১৭ পয়েন্ট পড়ে ৭৪,২৪৩ এবং নিফটি ২৩,৩৬৭ পয়েন্টে থমকে দাঁড়িয়েছে। ট্রেন্ট, টিসিএস, রিলায়েন্সের মতো হেভিওয়েট স্টকগুলির ২ শতাংশ পর্যন্ত পতন বাজারের মেজাজ বিগড়ে দিয়েছে। কেন এই পতন এবং আগামী সপ্তাহে বাজারের গতি কোন দিকে? জেনে নিন ৫টি প্রধান কারণ।
১. দুর্বল বৈশ্বিক সংকেত: শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিটে একপ্রকার রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। প্রযুক্তিপ্রধান নাসডাক সূচক ৪ শতাংশের বেশি পতন দেখেছে, যা এপ্রিল ২০২৫-এর পর সর্বোচ্চ। মার্কিন কর্মসংস্থান রিপোর্ট শক্তিশালী হওয়ায় ফেড রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়েছে। এছাড়া এনভিডিয়া ও ব্রডকমের দরপতন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে সংশয় বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২. আরবির কঠোর অবস্থান: রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৭ অর্থবর্ষের মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৫.১ শতাংশ করেছে এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৬ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। এই ‘হকিশ’ নীতি বাজারের সেন্টিমেন্টকে কিছুটা চাপে রেখেছে।
৩. এফআইআই-এর লাগামহীন বিক্রি: বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FII) বিক্রিবাটা বাজারের প্রধান মাথাব্যথার কারণ। জুনের প্রথম সপ্তাহে তারা ৩১,১২০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে। যদিও দেশীয় বিনিয়োগকারীরা (DII) বাজারকে ধরে রাখার চেষ্টা করছে, কিন্তু ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে এফআইআই-এর এই প্রস্থান সূচককে টেনে নামাচ্ছে।
৪. ইরান-মার্কিন রণক্ষেত্র: হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরান ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর ক্রমবর্ধমান সংঘাত তেলের বাজারের আগুন আরও উসকে দিয়েছে। নজরদারি সাইটে হামলা ও ট্যাঙ্কার আক্রমণের ঘটনায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার ভয় তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অনিশ্চয়তা সরাসরি দেশের বাজারে প্রভাব ফেলছে।
৫. মার্কিন বন্ডের ফলন: মুদ্রাস্ফীতির ভীতিতে মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড ১৫ মাসের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। উচ্চ সুদের হারের এই প্রবণতা শেয়ার বাজারের আকর্ষণ কমিয়ে বন্ড মার্কেটের দিকে পুঁজি টানছে। সোমবারের লেনদেনে এই ফ্যাক্টরগুলি মাথায় রেখে বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন। আপাতত বাজার একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই ঘোরাফেরা করার সম্ভাবনা রয়েছে।





