শেয়ার বাজারে ধস নামলেই এই সম্পদগুলোর দর বাড়ে আকাশছোঁয়া! মন্দার বাজারে লগ্নিকারীদের ‘লাইফ জ্যাকেট’ কী?

মধ্যপ্রাচ্যে তেলের খনিতে আগুনের ধোঁয়া আর সীমান্তে কামানের গর্জনে বিশ্ব অর্থনীতি আজ টালমাটাল। একদিকে সেনসেক্স-নিফটি হু হু করে পড়ছে, অন্যদিকে বিনিয়োগকারীরা তাঁদের আজীবনের সঞ্চয় রক্ষা করতে মরিয়া হয়ে খুঁজছেন এক ‘সেফ হেভেন’ (Safe Haven)। সাধারণ ভাষায়, সেফ হেভেন হলো এমন এক ধরণের বিনিয়োগ ক্ষেত্র, যা অর্থনৈতিক সংকট বা যুদ্ধের সময়ও তার মূল্য হারায় না, বরং ক্ষেত্রবিশেষে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। অর্থাৎ, বাজারের দুর্যোগে এটি বিনিয়োগকারীদের কাছে ‘লাইফ জ্যাকেট’ হিসেবে কাজ করে।

বিনিয়োগের জগতে সবথেকে শক্তিশালী সেফ হেভেন হলো স্বর্ণ বা সোনা। ইতিহাসের পাতায় দেখা গিয়েছে, যখনই বিশ্বযুদ্ধ বা বড় কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, মানুষ কাগুজে মুদ্রার চেয়ে সোনার ওপর বেশি ভরসা করেছে। কারণ সোনার সহজাত মূল্য কখনো শূন্য হয় না। দ্বিতীয় প্রধান সেফ হেভেন হলো মার্কিন ডলার বা সুইস ফ্রাঁ (Swiss Franc)। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ডের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা এবং স্থিতিশীল ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য সংকটের সময় বিশ্বজুড়ে সুইস ফ্রাঁর চাহিদা তুঙ্গে ওঠে। এছাড়া সরকারি বন্ড বা ট্রেজারি বিলকেও নিরাপদ মনে করা হয়, কারণ এর পিছনে সরকারের গ্যারান্টি থাকে।

বিনিয়োগকারীরা কেন এখন সেফ হেভেনে ঝুঁকছেন? এর উত্তর সহজ— মূলধন রক্ষা। শেয়ার বাজারে ঝুঁকি বেশি, কিন্তু সোনা বা ক্যাশ কারেন্সিতে সেই ঝুঁকি অনেক কম। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা যত বাড়বে, অপরিশোধিত তেলের দাম ততই অস্থির হবে এবং বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে। এই পরিস্থিতিতে শেয়ার বাজার থেকে টাকা তুলে সোনা বা নিরাপদ মুদ্রায় বিনিয়োগ করাই হলো আধুনিক লগ্নি-বিজ্ঞানের শ্রেষ্ঠ উপায়। তাই বাজারের এই অস্থির সময়ে নিজের পোর্টফোলিওর একটি অংশ ‘সেফ হেভেন’-এ রাখা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ।


🔹 Hindi Version:

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy