শেখ আবদুল্লার চালু করা বিতর্কিত আইনে বন্দি কাশ্মীরি! জনপ্রিয়তাই কি কাল হয়েছিল মাশুক আহমেদের?

এলাকার মানুষের কাছে সম্মান এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গভীর প্রভাব থাকাই অনেক সময় জীবনে কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে—তারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ উঠে এল জম্মু-কাশ্মীরের শোপিয়ানের বাসিন্দা মাশুক আহমেদ শাহের ঘটনায়। জম্মু ও কাশ্মীরের বহুল ব্যবহৃত ও বিতর্কিত জন সুরক্ষা আইনের (পাবলিক সেফটি অ্যাক্ট বা পিএসএ) একটি বিশেষ ধারার অপব্যবহার করে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। তবে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ হাইকোর্ট সেই গ্রেপ্তারির নির্দেশকে সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করে মাশুক আহমেদ শাহকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

১৯৭৮ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার দাদু শেখ আবদুল্লা এই বিতর্কিত জন সুরক্ষা আইনটি চালু করেছিলেন। অতীতে ওমর আবদুল্লা, ফারুক আবদুল্লা এবং মেহবুবা মুফতির মতো হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদেরও ২০১৯ সালে অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিলের সময় প্রতিবাদের ভয়ে এই একই আইনের জেরে গৃহবন্দি করা হয়েছিল। শোপিয়ানের ডেপুটি কমিশনারের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় দাবি করা হয়েছিল যে মাশুক আহমেদ শাহ রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত হতে পারেন এবং তাঁর প্রবল জনসমর্থন যুবসমাজকে বিপথে চালিত করতে পারে।

আদালতে মাশুক আহমেদের পক্ষের আইনজীবীরা জোরালো সওয়াল করেন যে, পুলিশ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে বন্দি করে রেখেছে এবং এর সপক্ষে কোনো ठोस প্রমাণ দেখাতে পারেনি। মামলার শুনানি শেষে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ হাইকোর্টের বিচারপতি রজনেশ ওসওয়াল জন সুরক্ষা আইনের ২২(৫) ধারার অধীনে ওই ব্যক্তির আটককে বেআইনি ও অসাংবিধানিক বলে রায় দেন। বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে পুলিশের আনা সমস্ত অভিযোগই নিছক মনগড়া এবং অনুমানভিত্তিক।

হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ সত্ত্বেও জম্মুর কোট ভালওয়াল জেলে বন্দি থাকা মাশুক শাহকে এখনও পর্যন্ত মুক্তি দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, উচ্চ আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবে কি না, তা নিয়েও এখনও পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট সরকারি ঘোষণা আসেনি। তবে জনপ্রিয়তাকে দমন করার এই আইনি হাতিয়ার এবং আদালতের রায়কে ঘিরে কাশ্মীর উপত্যকায় নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে।