বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের অগ্নিমূল্য এবং পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে ভারত সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর আবগারি শুল্ক (Excise Duty) কমানোর বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত রাতেই কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে, পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর লিটার প্রতি ১০ টাকা করে শুল্ক কমানো হচ্ছে। তবে এই ঘোষণার পর খুশিতে ডগমগ হওয়ার আগে সাধারণ মানুষের জন্য রয়েছে একটি বড় ধাক্কা— কর কমলেও পাম্পে তেলের দাম কিন্তু এক পয়সাও কমছে না।
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি (OMCs) ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বর্তমানে ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়ামের মতো সংস্থাগুলি পেট্রোলে লিটার প্রতি প্রায় ২৪ টাকা এবং ডিজেলে প্রায় ৩০ টাকা লোকসান দিচ্ছে। সরকারের এই শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত মূলত সেই লোকসান কিছুটা সামাল দেওয়ার জন্য। অর্থাৎ, শুল্ক কমলে যে সুবিধা গ্রাহকদের পাওয়ার কথা ছিল, তা তেল সংস্থাগুলির আর্থিক গর্ত ভরাট করতে ব্যবহার করা হবে। ফলে ক্রেতাদের পুরোনো দামেই তেল কিনতে হবে।
নয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পেট্রোলের ওপর আবগারি শুল্ক ১৩ টাকা থেকে কমিয়ে ৩ টাকা করা হয়েছে। আর ডিজেলের ক্ষেত্রে ১০ টাকা শুল্ক পুরোপুরি তুলে দিয়ে তা ‘শূন্য’ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন, সরকার প্রায় ১.৭ লক্ষ কোটি টাকার রাজস্ব ত্যাগ করছে যাতে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর না পড়ে এবং তেলের দাম যাতে আর না বাড়ে। অন্যথায়, এই বিপুল লোকসানের কারণে পাম্পে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যেতে পারত।
বিরোধী পক্ষ অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে ‘আইওয়াশ’ বা ভাঁওতা বলে কটাক্ষ করেছে। তাদের দাবি, নির্বাচনের মুখে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতেই এই শুল্ক কমানোর নাটক করা হচ্ছে, আদতে মানুষের পকেট থেকে কোনো টাকা সাশ্রয় হচ্ছে না। অন্যদিকে, জ্বালানি রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত কর বসিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের জোগান নিশ্চিত করার চেষ্টাও করছে। ফলে সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যা দাঁড়াল, তাতে তেলের দাম কমার আশা আপাতত বিশ বাঁও জলে।