শুল্কের টানাপোড়েন ভুলে কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে হাত বাড়াল ভারত-আমেরিকা, তৈরি হবে নতুন উৎকর্ষ কেন্দ্র

শুল্ক নিয়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যেই প্রযুক্তিক্ষেত্রে দু’দেশের সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত খুলে গেল বাংলায়। সানটেক গ্লোবাল এবং আইআইটি খড়গপুর কলকাতায় সেমিকন্ডাক্টর ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তির একটি উৎকর্ষ কেন্দ্র তৈরি করবে। এই বিষয়ে বৃহস্পতিবার শহরের আমেরিকান সেন্টারে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

আমেরিকার কনসাল জেনারেল কাথি গাইলস-ডিয়াজ এই চুক্তিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “এটি ভারত-আমেরিকার ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার প্রমাণ, যা দুই দেশের কৌশলগত লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”

উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা
সানটেক গ্লোবালের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী ড. সন্তোষ মুখোপাধ্যায় জানান, এই কেন্দ্রটি শুধুমাত্র একটি গবেষণাগার নয়, বরং মার্কিন উদ্ভাবনী নেতৃত্ব ও ভারতের অ্যাকাডেমিক শক্তিকে যুক্ত করার একটি সেতু। তিনি বলেন, “আমরা একসঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তির নকশা, উৎপাদন এবং বাণিজ্যিকীকরণ করব।” এর ফলে স্থিতিশীল ও টেকসই সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

এই প্রকল্পের অধীনে নতুন প্রজন্মের চিপ ডিজাইন, উৎপাদন, উন্নত প্যাকেজিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। আইআইটি খড়গপুরের পরিচালক ড. সুমন চক্রবর্তী এই উদ্যোগকে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন।

ট্রাম্প ও মোদীর ‘ট্রাস্ট’ কর্মসূচির অংশ
এই উদ্যোগটি ‘ট্রাস্ট’ (Transforming the Relationship Utilizing Strategic Technology) কর্মসূচির আওতায় গৃহীত হয়েছে, যা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে চালু করেছিলেন। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো কৌশলগত প্রযুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা আরও গভীর করা।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কলকাতায় এই উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে উঠলে তা ভারতের প্রযুক্তি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। একইসঙ্গে এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত ভারসাম্য ও নিরাপত্তা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হবে।