শুভেন্দু বনাম মমতা মুখোমুখি! হাইভোল্টেজ দ্বৈরথে চরম অপমানিত তৃণমূল নেত্রী? বড় পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি!

ভোটযুদ্ধের ময়দানে এবার বেনজির সংঘাত! নিজের খাসতালুক ভবানীপুরেই মেজাজ হারালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সভার মাইকের আওয়াজে ক্ষুব্ধ হয়ে মাঝপথেই নিজের সভা বাতিল করে মঞ্চ ছাড়লেন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সন্ধ্যায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিল চক্রবেড়িয়া এলাকা।

কী ঘটেছিল চক্রবেড়িয়ায়?

শনিবার সন্ধ্যায় ভবানীপুরের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের চক্রবেড়িয়া এলাকায় ৫০০-৬০০ মিটারের ব্যবধানে দুটি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। একদিকে ছিল তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ট্রিট কর্নার, অন্যদিকে ছিল বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর সভা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বক্তব্য রাখতে মঞ্চে ওঠেন, ঠিক সেই সময় পাশের বিজেপির সভার মাইকের উচ্চ শব্দে তাঁর কথা বলা দায় হয়ে পড়ে।

“পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া!” বিস্ফোরক মমতা

মাইকের আওয়াজে বিরক্ত হয়ে মঞ্চ থেকেই ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি বলেন:

“সব অনুমতি নিয়ে সভা করতে এসেছি, তার পরেও এই আচরণ! জোর করে বাংলা দখলের জন্য এরা অসভ্যতা করছে। সামনে চিৎকার করছে যাতে আমি সভা করতে না পারি। এটাকে বলে পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করা।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমাকে ক্ষমা করবেন, এই অপমানের মধ্যে আমি সভা করতে পারব না। এটা অত্যন্ত অপমানজনক। আগামীকাল আমি এখানে মিছিল করব। এই অপমানের জবাব আপনাদের ভোটেই দিতে হবে।” এর পরেই তিনি দ্রুত মঞ্চ ত্যাগ করেন।

উত্তপ্ত রণক্ষেত্র, আসরে পুলিশ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভা ছেড়ে বেরিয়ে যেতেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। ক্ষুব্ধ তৃণমূল সমর্থকরা বিজেপির সভাস্থলের দিকে তেড়ে যান। পাল্টা রুখে দাঁড়ান বিজেপি কর্মীরাও। দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি এবং স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশ বাহিনীকে। দীর্ঘক্ষণ পর পুলিশি হস্তক্ষেপে দুই পক্ষকে নিরস্ত করা সম্ভব হয়।

ভোটের মুখে ভবানীপুরের এই ‘মাইক যুদ্ধ’ যে রাজনৈতিক পারদকে আরও কয়েক ডিগ্রি চড়িয়ে দিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আগামীকাল মমতার ঘোষিত মিছিল ঘিরে এখন থেকেই সতর্ক প্রশাসন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy