কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকলেও বাংলায় রোখা যাচ্ছে না রাজনৈতিক হিংসা। এবার খোদ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ উঠল। হাওড়া জেলার শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ১৬৯ নম্বর বুথ এলাকায় প্রচার সেরে ফেরার পথে শুভেন্দুর কনভয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার সরগরম হয়ে উঠল জাতীয় রাজনীতির অলিন্দ।
ঠিক কী ঘটেছিল শিবপুরে? বিজেপির অভিযোগ অনুযায়ী, ১৬৯ নম্বর বুথ এলাকায় শান্তিপূর্ণ প্রচার শেষে যখন শুভেন্দু অধিকারী এবং দলীয় কর্মীরা ফিরছিলেন, তখন আচমকাই একদল দুষ্কৃতী তাঁদের পথ আটকায়। অভিযোগ, প্রথমে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং পরে সরাসরি আক্রমণ চালানো হয়। হামলায় বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী জখম হয়েছেন এবং বিরোধী দলনেতার কনভয়ের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও দাবি গেরুয়া শিবিরের।
কমিশনে বিজেপির ৪ দফা দাবি: এই ঘটনার পর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের প্রধান দাবিগুলি হলো: ১. এফআইআর ও তদন্ত: হাওড়ার ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত এফআইআর দায়ের করে নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করতে হবে। ২. পুলিশের শাস্তি: দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ৩. নিরাপত্তা বৃদ্ধি: সংবেদনশীল এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর (CAPF) নজরদারি আরও বাড়াতে হবে। ৪. স্বাধীন তদন্ত: রাজ্যে ধারাবাহিকভাবে চলা হিংসার ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
গণতন্ত্রের ওপর আঘাত: বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হিংসা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় বারবার তাঁদের কর্মীদের প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং সামগ্রী নষ্ট করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, বিরোধী প্রার্থীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে না, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে।
কমিশনের ভূমিকা এখন প্রশ্নের মুখে: শুভেন্দু অধিকারীর মতো হেভিওয়েট নেতার ওপর হামলার অভিযোগ সামনে আসায় ব্যাপক অস্বস্তিতে প্রশাসন। এখন সব নজর নির্বাচন কমিশনের দিকে। ভোটের মাত্র কয়েকদিন আগে এই অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটাই এখন দেখার।





