৪ মে আসন্ন ভোট গণনার ঠিক আগেই বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। গণনাকেন্দ্রে রাজ্যের আধিকারিকদের নিয়োগের দাবিতে যে আইনি লড়াইয়ে নেমেছিল ঘাসফুল শিবির, তাতে জল ঢেলে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, গণনাকেন্দ্রে পর্যবেক্ষক ও সহায়কদের নিয়োগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তেই সিলমোহর বজায় থাকবে। এই রায়কে কেন্দ্র করে গণনার আগেই বাংলায় রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে উঠেছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল, গণনাকেন্দ্রে কেবলমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার (PSU) কর্মীদের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করলে নিরপেক্ষতা বজায় থাকবে না। তাদের দাবি ছিল, যেহেতু কেন্দ্রের ক্ষমতায় বিজেপি, তাই কেন্দ্রীয় কর্মীরা তাদের দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন। সেই যুক্তি দেখিয়ে রাজ্য সরকারের মনোনীত প্রতিনিধিদের পর্যবেক্ষক করার আবেদন জানিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট সেই দাবি পুরোপুরি খারিজ করে দেয়। আদালত সাফ জানায়, নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ অধিকার রয়েছে তাদের আধিকারিক বেছে নেওয়ার এবং এই যুক্তিতে কমিশনের নির্দেশনামা বাতিল করা সম্ভব নয়।
কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, তারা গত ১৩ এপ্রিলের সার্কুলার মেনেই কাজ করছে। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, গণনায় ভারসাম্য বজায় রাখা হচ্ছে। যদি গণনাকেন্দ্রে পর্যবেক্ষক কেন্দ্রীয় সরকারের হয়, তবে গণনা সহকারী হবেন রাজ্য সরকারের। অর্থাৎ প্রতিটি টেবিলে বা কেন্দ্রে অন্তত একজন করে রাজ্য সরকারি আধিকারিক উপস্থিত থাকবেন। কমিশনের এই যুক্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত।
আদালতের এই কড়া অবস্থানের পর তৃণমূল কংগ্রেসও তাদের সুর বদলাতে বাধ্য হয়েছে। মামলার শেষে তারা দাবি করেছে, অন্তত নির্বাচন কমিশন যেন তাদের নিজস্ব সার্কুলারটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করে রাজ্য সরকারি কর্মীদের নিয়োগ নিশ্চিত করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণনার আগেই সুপ্রিম কোর্টের এই হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত তৃণমূলের কৌশলে বড় ধাক্কা। এখন দেখার, ৪ মে গণনাকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য কর্মীদের এই মিশ্রণ কতটা মসৃণভাবে ফল ঘোষণা সম্পন্ন করে।





