নবান্নে পালাবদলের পর প্রশাসনিক রদবদলে এক বড়সড় চমক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্নে রাজ্যের সমস্ত সচিবদের নিয়ে আয়োজিত প্রথম হাই-প্রোফাইল বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিলেন তাঁর কাজের ধারা। তবে এই বৈঠকের সবথেকে বড় আকর্ষণ ছিল রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব তথা অভিজ্ঞ আমলা নন্দিনী চক্রবর্তীকে দেওয়া এক বিশেষ দায়িত্ব। মমতার সরকারের শেষ সময়ের মুখ্যসচিবকে এবার সীমান্ত নিরাপত্তা ও জমি হস্তান্তরের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুরুভার দিলেন শুভেন্দু।
বিএসএফ ও জমি জট নিরসনে নন্দিনী:
রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘকাল ধরে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ থমকে ছিল। তৎকালীন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের অভিযোগ ছিল, টাকা মেটানো সত্ত্বেও রাজ্য জমি হস্তান্তর করছে না। যার ফলে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে (BSF) সমস্ত প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করতে হবে। আর এই গোটা প্রক্রিয়ার তদারকি ও সমন্বয়ের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নন্দিনী চক্রবর্তীকে। প্রশাসনিক মহলের মতে, নন্দিনীর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই কেন্দ্র-রাজ্য এই দীর্ঘদিনের তিক্ততা মেটাতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী।
নবান্নের মেগা বৈঠক ও কাজের নির্দেশ:
বুধবারের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী যে সমস্ত দফতরে এখনও মন্ত্রীর নাম ঘোষিত হয়নি, সেই দফতরগুলির কাজ পরিচালনার দায়িত্ব অভিজ্ঞ বিধায়কদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। তিনি সচিবদের নির্দেশ দেন, আমলাতন্ত্রের জটিলতা কমিয়ে যেন দ্রুত ফাইল ক্লিয়ার করা হয়। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তাও দেন তিনি। নন্দিনী চক্রবর্তীকে এই বিশেষ প্রজেক্টের দায়িত্ব দিয়ে শুভেন্দু বুঝিয়ে দিলেন যে, দক্ষ আধিকারিকদের তিনি রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে ব্যবহার করতে প্রস্তুত।
বর্ণময় কেরিয়ার ও নতুন লড়াই:
রাজ্যের প্রথম মহিলা মুখ্যসচিব হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন নন্দিনী চক্রবর্তী। স্বরাষ্ট্র ও পর্যটন দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। মনোজ পন্থের অবসরের পর তিনি দায়িত্ব পেলেও, নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে মাঝরাতে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে তিনি মুখ্যমন্ত্রী দফতরের ‘ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কস’-এর প্রিন্সিপাল কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করছেন। এবার ৪৫ দিনের সময়সীমার মধ্যে কাঁটাতারের বেড়ার জন্য জমি হস্তান্তরের এই চ্যালেঞ্জিং মিশন নন্দিনীর প্রশাসনিক কেরিয়ারে এক নতুন মোড় নিয়ে আসবে।





