পুরুলিয়া থেকে ফেরার পথে শনিবার রাতে মেদিনীপুরে প্রবল উত্তেজনা। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার অভিযোগ ঘিরে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা রোড এলাকা। অভিযোগ, রাত সাড়ে আটটা নাগাদ একদল দুষ্কৃতী আচমকা শুভেন্দু অধিকারীর গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। বিরোধী দলনেতার দাবি, হামলাকারীরা সকলেই শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতী এবং গোটা ঘটনাটি ঘটেছে পুলিশের সামনেই।
শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, যখন তাঁর ওপর হামলা চালানো হচ্ছিল, তখন সেখানে উপস্থিত পুলিশ কর্মীরা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছিলেন। কেউ হামলাকারীদের আটকানোর চেষ্টা করেনি। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে তিনি বলেন, “এটি শুধু আমার ওপর হামলা নয়, পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী মতের ওপর সরাসরি আক্রমণ। যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুললেই তাকে এভাবেই চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
হামলার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি নেতা। তিনি গাড়ি নিয়ে সরাসরি পৌঁছে যান চন্দ্রকোনা থানায় এবং সেখানে থানার চত্বরেই ধর্ণায় বসেন। তাঁর সাফ দাবি, যতক্ষণ না হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হচ্ছে, ততক্ষণ তিনি থানা থেকে নড়বেন না। শুভেন্দু বলেন, “দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমার লড়াই চলবে। বাংলার মানুষ এর চেয়ে অনেক ভালো পরিবেশের যোগ্য।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চন্দ্রকোনা থানা চত্বর এবং সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে পরিস্থিতি সামাল দিতে। বিজেপির পক্ষ থেকে এই ঘটনার প্রতিবাদে জেলাজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে শাসকদল বা জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।