শুনানিতে গরহাজির থাকলে কি কাটা যাবে নাম? SIR নিয়ে মোক্ষম জবাব দিলেন CEO মনোজ আগরওয়াল

রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা পরিমার্জনের কাজ বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে চূড়ান্ত ব্যস্ততা চলছে নির্বাচন কমিশনের দফতরে। আজ ছিল শুনানির বর্ধিত সময়সীমার শেষ দিন। ঠিক এই সময়েই সাংবাদিকরা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালের কাছে জানতে চান—যারা শুনানিতে ডাক পাওয়া সত্ত্বেও যাননি, তাদের ভবিষ্যৎ কী?

শুনানিতে না গেলে কী হবে?

CEO মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, যারা শুনানিতে উপস্থিত হতে পারেননি, তাদের এখনই ঘাবড়ানোর কোনো কারণ নেই। তবে তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছেন:

  • নোটিস পাঠানো: যারা শুনানিতে যাননি, তাদের নাম যদি তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে কমিশন সরাসরি তা করবে না। সংশ্লিষ্ট ভোটারের বাড়িতে নোটিস পাঠানো হবে এবং কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া হবে।

  • তথ্য যাচাই: ভোটার তালিকায় যাদের তথ্যে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ বা অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছিল, শুধুমাত্র তাদেরই ডাকা হয়েছিল। অনুপস্থিতিদের ক্ষেত্রে ইআরও (ERO) এবং এইআরও (AERO)-রা পুনরায় নথি খতিয়ে দেখবেন।

  • সতর্কবার্তা: কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেউ যদি তথ্য গোপন করেন বা বারবার ডাকার পরেও না আসেন, সেক্ষেত্রে আইনত ব্যবস্থা বা নাম কর্তনের সম্ভাবনা থেকে যায়।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা কবে?

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে CEO জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং কাজের চাপের কথা মাথায় রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিনক্ষণ কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

  • নতুন তারিখ: আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও, এখন তা পিছিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ করা হয়েছে।

  • স্ক্রুটিনির সময়: ১৪ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষ হওয়ার পর আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে জমা পড়া নথিপত্র যাচাই বা স্ক্রুটিনির কাজ।

কমিশনের কড়া নির্দেশ

শুক্রবারই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, ভোটার তালিকায় যেন কোনো বিদেশি বা অবৈধ ভোটারের নাম না থাকে। একইসঙ্গে কোনো বৈধ ভারতীয় নাগরিকের নাম যাতে বাদ না পড়ে, সেদিকেও কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে জেলাশাসক ও নির্বাচনী আধিকারিকদের।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy