ঘরের কোণে বা জানলার পাশে একটি মানি প্ল্যান্ট শুধু ঘরের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, এটি বাড়ির পরিবেশকে সতেজ ও প্রাণবন্ত করে তোলে। বাস্তুশাস্ত্র মতেও বাড়িতে মানি প্ল্যান্ট রাখা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। কিন্তু অনেকেরই অভিযোগ, বহু যত্ন করা সত্ত্বেও তাদের প্রিয় গাছটি ঠিকমতো বড় হচ্ছে না। আসলে সঠিক পরিচর্যার অভাবই এই এভারগ্রিন ক্লাইম্বারের বৃদ্ধির পথে প্রধান অন্তরায়। আসুন জেনে নিই, গাছকে দ্রুত বাড়াতে কোন বিষয়গুলোতে নজর দেওয়া জরুরি।
প্রথমেই মনে রাখবেন, মানি প্ল্যান্ট কম আলোয় টিকে থাকতে পারলেও, এর দ্রুত বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ‘ব্রাইট ইনডাইরেক্ট সানলাইট’। ঘরের একদম অন্ধকার কোণে গাছ রাখলে পাতার আকার ছোট হয়ে যায় এবং লতাগুলো পাতলা ও দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই গাছটি এমন জায়গায় রাখুন যেখানে সূর্যের নরম আলো পৌঁছায়, তবে কড়া রোদ যেন সরাসরি পাতায় না লাগে।
দ্বিতীয়ত, গাছে অতিরিক্ত জল দেওয়া বন্ধ করুন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত জলের কারণে শিকড় পচে গাছের বৃদ্ধি থমকে যায়। টবের ওপরের মাটির স্তর সম্পূর্ণ শুকনো মনে হলেই তবে জল দিন। মাটির আর্দ্রতা বুঝে জল দিলে শিকড় পুষ্টি উপাদান ভালোভাবে শোষণ করতে পারে।
তৃতীয়ত, বসন্ত থেকে গরমকাল হলো মানি প্ল্যান্টের বেড়ে ওঠার প্রধান সময়। এই সময়ে প্রতি চার থেকে ছয় সপ্তাহ অন্তর হালকা লিকুইড ফার্টিলাইজার বা তরল সার ব্যবহার করলে ম্যাজিকের মতো ফল পাওয়া যায়। তবে মনে রাখবেন, অতিরিক্ত সার গাছের শিকড় পুড়িয়ে পাতা হলুদ করে দিতে পারে, তাই পরিমাণে সতর্ক থাকুন।
চতুর্থত, ‘রুট বাউন্ড’ বা শিকড়ের জট সমস্যার দিকে খেয়াল রাখুন। অনেক সময় টবের নিচের ফুটো দিয়ে শিকড় বেরিয়ে আসতে শুরু করে। এর অর্থ গাছটির বড় জায়গার প্রয়োজন। এমন অবস্থায় একটু বড় টবে উর্বর মাটি দিয়ে গাছটি রিপট করলে শিকড় ছড়ানোর পর্যাপ্ত জায়গা পাবে।
পঞ্চমত, মানি প্ল্যান্টকে লতানো গাছের মতো ওপরের দিকে বাড়তে সাহায্য করুন। একটি কোকোপিট পোল বা নারকেলের ছোবড়ার কাঠি টবের মাঝে পুঁতে তার গা ঘেঁষে লতাগুলো জড়িয়ে দিন। ওপরের দিকে ওঠার সময় গাছটি বাড়তি শক্তি পায়, যা পাতার আকার বড় ও উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।
সবশেষে, গাছের বৃদ্ধিতে ছাঁটাই বা প্রুনিং অত্যন্ত জরুরি। বাড়তি অংশ ছেঁটে দিলে সেখান থেকে একাধিক নতুন শাখা জন্মায়, যা গাছকে ঘন ও আকর্ষণীয় করে তোলে। কাটা অংশগুলো আবার একই টবে পুঁতে দিলে গাছটি আরও ঝাঁকড়া দেখাবে। এছাড়া এসির হাওয়া বা প্রচণ্ড ঠান্ডা থেকে গাছটিকে দূরে রাখলে তা ট্রপিক্যাল আবহাওয়ায় দ্রুত বাড়তে পারবে।





