শীতের রাতে নবদ্বীপের স্বরূপগঞ্জ পঞ্চায়েতের রেল কলোনি এলাকায় এক সদ্যোজাত শিশুকে বাথরুমের দরজার সামনে ফেলে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, রাতের তীব্র ঠান্ডা ও শিয়ালের হাত থেকে শিশুটিকে রক্ষা করতে সারমেয়রা তাকে ঘিরে রেখে পাহারা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভোর রাত থেকেই শিশুটির কান্নার আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু ঠান্ডা ও অজ্ঞতাবশত অনেকেই এটিকে প্রতিবেশীর বাড়ির বাচ্চার কান্না বলে উপেক্ষা করেন। সকাল হতেই পঞ্চায়েত সদস্য নির্মল ভৌমিকের কাকা রাধা ভৌমিকের বাড়ির বাথরুমের দরজার সামনে সদ্যোজাত শিশুটিকে দেখতে পান স্থানীয়রা। তখনই তারা দেখেন যে একদল পথকুকুর শিশুটিকে ঘিরে রয়েছে।
পরে স্থানীয় এক মহিলা শিশুটিকে তুলে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান। মাথায় সামান্য রক্ত লাগা থাকলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। স্থানীয় বাসিন্দা দীনবন্ধু দেবনাথ বলেন, “আমাদের পাড়ায় অনেক শিয়াল আছে। তবে পাড়ার গলিতে কতগুলো কুকুর সবসময় পাহারা দেয়। ওরাই বাচ্চাটাকে ঘিরে রেখেছিল।”
এরপর শিশুটিকে তড়িঘড়ি প্রথমে মহেশগঞ্জ হাসপাতাল ও পরে কৃষ্ণনগর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। নবদ্বীপ থানার পুলিশ এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। পঞ্চায়েত সদস্য নির্মল ভৌমিকের ধারণা, পার্শ্ববর্তী এলাকার কেউ শিশুটিকে এখানে রেখে যেতে পারে। পুলিশ শিশুটির পরিচয় জানতে না পারলেও, দ্রুত তাকে চাইল্ড লাইনের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য যোগাযোগ শুরু করেছে।