বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে শীতলা পুজো এক বিশেষ স্থান অধিকার করে রয়েছে। বিশেষ করে চৈত্র ও বৈশাখ মাসের সন্ধিক্ষণে যখন বসন্তের প্রকোপ বাড়ে, তখনই ঘরে ঘরে মা শীতলার আরাধনা করা হয়। তবে এই পুজোর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো ‘শীতল ভোগ’ বা বাসি খাবার খাওয়ার নিয়ম। কেন এই দিনে উনুন জ্বালানো নিষিদ্ধ? কেনই বা ঠান্ডা খাবার খাওয়ার ওপর এত জোর দেওয়া হয়? এর পেছনে কেবল ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, লুকিয়ে আছে গভীর বিজ্ঞান।
ধর্মীয় মতে, মা শীতলা হলেন প্রশান্তির দেবী। তিনি শরীর ও মনকে ঠান্ডা রাখেন। তাই পুজোর আগের দিন অন্ন ও ব্যঞ্জন রেঁধে রাখা হয় এবং পুজোর দিন সেই বাসি খাবারই প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। মনে করা হয়, এই দিন উনুন জ্বালালে দেবী রুষ্ট হন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অন্য কথা বলছে। বসন্তকাল হলো ঋতু পরিবর্তনের সময়, যখন বাতাসে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার দাপট বাড়ে। পক্স বা বসন্ত রোগের প্রাদুর্ভাব এই সময়েই সবচেয়ে বেশি হয়।
বিজ্ঞানীদের মতে, গরম খাবার বা মশলাদার খাবার শরীরে উত্তাপ বাড়ায়, যা এই ধরনের সংক্রমণের সময় ক্ষতিকারক হতে পারে। অন্যদিকে, পান্তা ভাত বা ঠান্ডা বাসি খাবার পাকস্থলীকে ঠান্ডা রাখে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া, বাসি খাবারে উৎপন্ন হওয়া উপকারি ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। প্রাচীন ভারতের মুনি-ঋষিরা ধর্মের আবরণে এই স্বাস্থ্যবিধিকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাই ২০২৬-এর শীতলা পুজোয় যখন আপনি শীতল ভোগ গ্রহণ করবেন, জানবেন তা কেবল ভক্তি নয়, আপনার সুস্বাস্থ্যের এক প্রাচীন দাওয়াই।