শিশু সুরক্ষা ও শিশু যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে এক অভাবনীয় এবং কঠোর অবস্থান নিল কর্ণাটক হাইকোর্ট। সম্প্রতি একটি মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, চাইল্ড পর্নোগ্রাফি বা শিশুদের নিয়ে তৈরি পর্নোগ্রাফিক উপাদান মোবাইলে বা অন্য কোনো ডিভাইসে কেবল সংরক্ষণ করে রাখা (Storage) বা ডাউনলোড করাও এখন থেকে গুরুতর অপরাধ বলে গণ্য হবে। এতদিন অনেকে মনে করতেন যে এই ধরণের ভিডিও কেবল শেয়ার করলে বা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করলে অপরাধ হয়, কিন্তু আদালতের এই নতুন পর্যবেক্ষণ সেই ধারণাকে আমূল বদলে দিল।
বিচারপতি এম নাগাপ্রসন্নর বেঞ্চ জানিয়েছে যে, যারা এই ধরণের নোংরা ভিডিও ফোনে জমা করে রাখেন, তাঁরা পরোক্ষভাবে এই অপরাধের বাজারকে চাঙ্গা করছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পর্নোগ্রাফিক উপাদান ডিভাইসে রাখা মানেই হলো শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধকে উসকানি দেওয়া। এর ফলে অপরাধীদের মনে আর কোনো সংশয় থাকল না যে, পকসো (POCSO) আইনের আওতায় এই ধরণের কাজ এখন থেকে আরও কড়া আইনি শাস্তির মুখে পড়বে।
এই রায় দেওয়ার সময় আদালত আরও যোগ করেছে যে, বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিশুদের ওপর বাড়তে থাকা মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের মূলে রয়েছে এই ধরণের কন্টেন্টের সহজলভ্যতা। তাই সমাজকে কলুষমুক্ত করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিরাপদ রাখতে এই ধরণের জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। যারা এই ধরণের অপরাধের সাথে যুক্ত বা অজান্তেই মোবাইলে এই ধরণের ফাইল রেখেছেন, তাঁদের জন্য এটি একটি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইকোর্টের এই নির্দেশিকা পুলিশের কাছে চাইল্ড পর্নোগ্রাফি নির্মূল করার লড়াইয়ে এক শক্তিশালী অস্ত্র হয়ে উঠবে।