শিলিগুড়িতে এবার কলকাতার আদলে জমজমাট বিনোদন পার্ক! সূর্যসেন পার্কের মেকওভারে কী কী অবিশ্বাস্য চমক আসছে?

শিলিগুড়ির অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র সূর্যসেন পার্ককে সম্পূর্ণ নতুন ও আকর্ষণীয় রূপে গড়ে তোলার এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। শুধুমাত্র পার্কের আধুনিকীকরণই নয়, এর পাশাপাশি মহানন্দা নদীর রিভারফ্রন্টকেও আরও অনেক বেশি জাঁকজমকপূর্ণ ও আকর্ষণীয় করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এক বিশেষ দিনে এলাকা পরিদর্শনে এসে রাজ্যের পর্যটন ও পরিষদীয় মন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিশিষ্ট বিধায়ক শংকর ঘোষ মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন যে, শহরের সামগ্রিক পর্যটন শিল্পকে এক্কেবারে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে একাধিক মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁর এই পরিদর্শনের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভাবে সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার নামী ও জনপ্রিয় নিকো পার্কের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও।

সূর্যসেন পার্কের অন্দরে ঘুরে দেখে এবং সেখানকার পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ জরুরি বৈঠক ও আলোচনা করেছেন মন্ত্রী। প্রাথমিক এবং খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই পার্কে খুব শীঘ্রই একাধিক অত্যাধুনিক ও রোমাঞ্চকর নতুন রাইড যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি, পার্কের বর্তমান পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি আরও দু’ থেকে তিনটি সম্পূর্ণ নতুন আকর্ষণ তৈরি করা হবে। এছাড়া পর্যটকদের মনোরঞ্জনের জন্য কেবল কার ব্যবস্থা, আধুনিক ক্যাফেটেরিয়া, ছোট শিশুদের জন্মদিন জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য বিশেষ জোন এবং পার্কের সবচেয়ে উঁচু অংশে একটি চমৎকার ভিউ টেরেস তৈরির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও রয়েছে। এই ভিউ টেরেস থেকে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা কাঞ্চনজঙ্ঘা-সহ উত্তরবঙ্গের মনোরম পাহাড়ের সৌন্দর্য খুব সহজেই উপভোগ করতে পারবেন।

শুধুমাত্র সাধারণ পর্যটকদের বিনোদনই নয়, এর পাশাপাশি শহরের প্রবীণ নাগরিক ও ছোট্ট শিশুদের সুবিধার কথাও মাথায় রেখে আলাদা কিছু পরিকল্পনা করা হয়েছে। মহানন্দা রিভারফ্রন্টকে এমন একটি নান্দনিক উপায়ে সাজানো হবে, যাতে প্রবীণরা নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা থেকে দূরে শান্ত ও মনোরম পরিবেশে নিরিবিলিতে হাঁটাচলা, খোশগল্প কিংবা মানসম্মত সময় কাটাতে পারেন। একইসঙ্গে ছোট শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট বয়সভিত্তিক আলাদা খেলার সেফ জোন তৈরির জোরালো ভাবনাও রয়েছে, যাতে তারা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ পরিবেশে খেলাধুলার সুযোগ পায়।

এ প্রসঙ্গে পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সূর্যসেন পার্কের আধুনিকীকরণ এবং মহানন্দা রিভারফ্রন্টের সামগ্রিক সৌন্দর্যায়ন—এই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প সম্পূর্ণ আলাদা প্রকল্প হিসেবে একে একে বাস্তবায়ন করা হবে। কলকাতার বিখ্যাত নিকো পার্কের অভিজ্ঞ আধিকারিকদের আমরা বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম, যাতে তাঁদের দীর্ঘদিনের পেশাদার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আরও নিখুঁত ও উন্নত পরিকল্পনা তৈরি করা সম্ভব হয়। গুজরাটের নদীর ধারের সফল উন্নয়নের মডেলটিকে সামনে রেখে এবং এনজেডিপি-র সমস্ত নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে যতটা সম্ভব সুন্দর ও নিখুঁতভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করার চেষ্টা চালানো হবে।”

মন্ত্রী আরও জোরালো দাবি করেন যে, শিলিগুড়ির বিধায়ক হিসেবে শহরের সার্বিক উন্নয়নের প্রতি তাঁর বিশেষ ও বাড়তি দায়িত্ব রয়েছে। সূর্যসেন পার্ক ও মহানন্দা রিভারফ্রন্টের এই সমস্ত উচ্চাভিলাষী প্রকল্পগুলি সফলভাবে রূপায়িত হলে শিলিগুড়ির পর্যটন শিল্প এক নতুন গতি পাবে এবং গোটা রাজ্যে এই শহরের পরিচিতি ও আকর্ষণ বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।