‘শিব ভক্ত সব বিষ হজম করে’, কংগ্রেসের তীব্র আক্রমণের জবাবে আসাম থেকে হুঙ্কার মোদীর

আসামে ১৮,৫৩০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। রবিবার আসামের দরং জেলার এক সমাবেশে তিনি ১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু উত্তর-পূর্বের মানুষের মনে যে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিলেন, কংগ্রেসের বর্তমান প্রজন্ম সেই ক্ষতে এখনও লবণ ছিটিয়ে চলেছে।
‘১৪০ কোটি মানুষই আমার রিমোট কন্ট্রোল’
বিরোধীদের বিভিন্ন অভিযোগের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি কেবল ভারতের জনগণের কাছেই উত্তর দেন। জনগণই তাঁর একমাত্র রিমোট কন্ট্রোল। তিনি বলেন, “এরাই (জনগণ) আমার রিমোট কন্ট্রোল। আমার আর কোনও রিমোট কন্ট্রোল নেই। ১৪০ কোটি দেশবাসীই আমার রিমোট কন্ট্রোল।”
ভূপেন হাজারিকাকে ভারতরত্ন প্রদান নিয়ে বিতর্ক
মোদি এই প্রসঙ্গে প্রয়াত সঙ্গীত কিংবদন্তি এবং ভারতরত্ন প্রাপ্ত ভূপেন হাজারিকাকে নিয়ে কংগ্রেসের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি জানান, ভূপেন হাজারিকাকে ভারতরত্ন দেওয়ার পর কংগ্রেস সভাপতির মন্তব্য তাঁকে গভীরভাবে আহত করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আমাকে কংগ্রেস সভাপতির একটি ভিডিও দেখিয়েছিলেন। যেদিন ভারত সরকার দেশের মহান সন্তান, আসামের গর্ব ভূপেন হাজারিকাকে ভারতরত্ন দিয়েছে, সেদিন কংগ্রেস দলের সভাপতি বলেছিলেন যে মোদি নৃত্যশিল্পী এবং গায়কদের ভারতরত্ন দিচ্ছেন।”
মোদি এই সিদ্ধান্তকে রাজনীতি নয়, বরং জাতীয় গর্বের বিষয় বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “তারা আমাকে যত ইচ্ছা গালি দিতে পারে। আমি একজন শিবভক্ত, আমি সব বিষ গিলে ফেলি। কিন্তু যখন অন্য কাউকে অপমান করা হয়, তখন আমি তা সহ্য করতে পারি না।” এরপর তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “আপনারা আমাকে বলুন, ভূপেনদাকে ভারতরত্ন দিয়ে সম্মানিত করার আমার সিদ্ধান্ত কি সঠিক নাকি ভুল? ভারতরত্ন দিয়ে সম্মানিত করার জন্য কংগ্রেস দল যে অপমান করেছে তা কি সঠিক নাকি ভুল?”
প্রধানমন্ত্রী মোদি শনিবার সন্ধ্যায় আসামে পৌঁছেছিলেন এবং ভূপেন হাজারিকার জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানেও যোগ দিয়েছিলেন।