শারীরিক সম্পর্কের পর ‘কুণ্ডলী’র দোহাই দিয়ে বিয়েতে না? শ্রীঘরে যেতে হতে পারে প্রেমিককে!

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর ‘কুণ্ডলী’ বা কোষ্ঠি মেলেনি—এই অজুহাতে সম্পর্ক থেকে সরে আসা এখন আর আইনি ঢাল হতে পারবে না। একটি মামলার শুনানিতে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক লিপ্ত হন এবং পরে কুণ্ডলী না মেলার অজুহাতে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু হতে পারে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় দীর্ঘদিনের শারীরিক সম্পর্কের পর পুরুষ সঙ্গী বিয়ের সময় পিছিয়ে আসেন। সেক্ষেত্রে অনেক সময় পরিবারের অমত বা জ্যোতিষশাস্ত্রের দোহাই দেওয়া হয়। বিচারপতি বলেন, “যদি কোনো ব্যক্তি শুরু থেকেই জানেন যে কুণ্ডলী না মিললে তিনি বিয়ে করবেন না, তবে সেই শর্ত প্রথমেই জানানো উচিত ছিল। শারীরিক সম্পর্কের পর এই অজুহাত তোলা সম্মতির অপব্যবহার বা প্রতারণা হিসেবে গণ্য হতে পারে।”

এই রায়টি মূলত সেই সব মামলার ক্ষেত্রে মাইলফলক হয়ে থাকবে যেখানে ‘ছলনার মাধ্যমে সম্মতি’ (Consent by Deceit) আদায়ের অভিযোগ ওঠে। হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কুণ্ডলী বা ভাগ্যের দোহাই দিয়ে কারোর আবেগের সাথে খেলা করা বা শারীরিক শোষণ করা ভারতীয় দণ্ডবিধির আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়ার যোগ্য। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় মহিলাদের আইনি সুরক্ষা আরও মজবুত করবে এবং বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে শোষণের প্রবণতা কমাবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy