শান্তি আলোচনা ভেস্তে যেতেই রণংদেহি ট্রাম্প! হরমুজ প্রণালীতে নৌসেনার বিশাল মহড়া, যুদ্ধের মেঘ মধ্যপ্রাচ্যে?

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির আশা কার্যত ধুলোয় মিশে গেল। দীর্ঘ টানাপড়েনের পর শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হতেই কড়া পদক্ষেপ নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) মার্কিন নৌসেনার শক্তিশালী বহর নামিয়ে বড়সড় সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে গোটা বিশ্বে নতুন করে যুদ্ধের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

কেন ব্যর্থ হলো শান্তি আলোচনা? সূত্রের খবর, পরমাণু চুক্তি এবং আঞ্চলিক স্থিতাবস্থা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যে আলোচনা চলছিল, তাতে কোনো সমাধান সূত্র মেলেনি। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, প্রতিপক্ষ নমনীয় হওয়ার বদলে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিচ্ছে। এর পরেই ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, “আমেরিকা আর আলোচনার টেবিলে সময় নষ্ট করবে না।”

হরমুজে নৌসেনার শক্তি প্রদর্শন মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ সচল রাখতে এবং যেকোনো উস্কানিমূলক তৎপরতা বন্ধ করতে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে (5th Fleet) উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে:

  • অত্যাধুনিক বিমানবাহী রণতরী (Aircraft Carrier)।

  • গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার।

  • কয়েক হাজার মেরিন সেনা।

তেলের বাজারে অস্থিরতা হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। এই এলাকায় সামরিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, আমেরিকার স্বার্থে আঘাত লাগলে বা আন্তর্জাতিক জলসীমায় কোনো বাধা সৃষ্টি হলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প তাঁর ‘পিস থ্রু স্ট্রেন্থ’ (শক্তির মাধ্যমে শান্তি) নীতি প্রয়োগ করতেই এই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

এখন দেখার, মার্কিন নৌসেনার এই অভিযানের জবাবে ইরান বা তার মিত্র শক্তিগুলো কী পদক্ষেপ নেয়। মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সমীকরণ বিশ্ব রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy