কলকাতা—তিলোত্তমা নাকি তিলত্তমা? এই শহরের রাজপথের জৌলুসের আড়ালে যে কত অন্ধকার গলি, কত না-পাওয়া আর কত হাহাকার লুকিয়ে আছে, তা তাঁর চোখ এড়িয়ে যায়নি। তাঁর লেখায় বারবার ধরা পড়েছে এক ‘অন্য কলকাতা’। যেখানে সাধারণ মানুষের লড়াইটা শুধু রুটি-রুজির নয়, বরং নিজের অস্তিত্ব আর নৈতিকতা বাঁচিয়ে রাখার। দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে শুরু করে যুবসমাজের বেকারত্বের জ্বালা—প্রতিটি বিষয়কে তিনি তুলে এনেছেন জীবনের এক জটিল পাকদণ্ডী হিসেবে।
তাঁর সাংবাদিকতা বা সাহিত্য কেবল তথ্যের সংকলন ছিল না, ছিল সময়ের দলিল। যখন চারদিকে রাজনৈতিক ডামাডোল আর আদর্শের চ্যুতি ঘটছে, তখন তিনি আপসহীনভাবে আঙুল তুলে দেখিয়েছেন সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়া পচনকে। মধ্যবিত্তের দ্বিধা, উচ্চবিত্তের ভণ্ডামি আর নিম্নবিত্তের টিকে থাকার লড়াই তাঁর কলমে পেয়েছে এক অনন্য মাত্রা। তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে একটা শহর তিল তিল করে তার নৈতিক মেরুদণ্ড হারাচ্ছে।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যখন আমরা ফের দুর্নীতি আর কর্মসংস্থানের সংকটের কথা শুনি, তখন তাঁর সেই দূরদর্শী লেখাগুলো আরও বেশি করে মনে পড়ে। তিনি কেবল সমস্যা তুলে ধরেননি, বরং সেই সমস্যার মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁর সৃষ্টি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, চকচকে বহুতল আর আলোর রোশনাইয়ের নিচে আজও এক বিশাল অংশের মানুষ বেকারত্বের অভিশাপে দগ্ধ হচ্ছে। সেই ‘অন্য কলকাতা’ আজও বদলে যায়নি, শুধু বদলেছে শোষণের রূপ। তাঁর জীবনমুখী সেই দর্শন আজও আমাদের সমাজের আয়না হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।