শরৎচন্দ্র আর সব্যসাচীর হাত ধরে এবার বড় পর্দায় ম্যাজিক! প্রথমবার মিউজিক ডিরেক্টরের আসনে বসেই কী ফাঁস করলেন সৃজিত?

পরিচালক হিসেবে তিনি বহু স্মরণীয় ও ব্যবসাসফল ছবি উপহার দিয়েছেন। তবে এবার দর্শকদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন এক চমক নিয়ে হাজির হচ্ছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়। আসন্ন ছবি ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’-এর হাত ধরেই প্রথমবার সংগীত পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন তিনি। ছবির গান ও আবহসংগীত—দুটি গুরুদায়িত্বই নিজে সামলেছেন এই খ্যাতনামা পরিচালক। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর এই নতুন জার্নি, ছোটবেলার স্মৃতি এবং ছবির বিভিন্ন অজানা দিক নিয়ে খোলামেলা আড্ডা দিয়েছেন।
ছোটবেলার সুরের আবহ ও পরিবার
সংগীতের সঙ্গে নিজের যোগসূত্র নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সৃজিত জানান, তাঁর পরিবারে সবসময়ই গানের একটা নিখাদ পরিবেশ ছিল। তাঁর বাবা ছিলেন সুধীন দাশগুপ্তর ছাত্র এবং মা কল্যাণী রায়ের ছাত্রী। ছোটবেলা থেকেই তাঁর ঘুম ভাঙত সেতারের সুরে। এ ছাড়া তাঁর পিসি হলেন কিংবদন্তি শিল্পী আরতি মুখোপাধ্যায়। ছোটবেলা থেকেই বিখ্যাত সব গান ও সুরের আবহে বড় হয়ে ওঠায় সংগীতের প্রতি টান তাঁর সহজাত। পরবর্তীকালে বিভিন্ন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করতে করতে এবং নানান বাদ্যযন্ত্র বাজাতে বাজাতে সংগীত পরিচালনার ভাবনাটি মনে দানা বাঁধে।
‘পথের দাবী’ ও নতুন ছবির ভাবনা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘পথের দাবী’কে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এই ছবি। এই প্রসঙ্গে পরিচালক জানান, চিত্রনাট্যের গভীরে ঢোকার জন্য তাঁকে নতুন করে পড়তে হয়েছে উপন্যাসটি। শরৎচন্দ্র তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরুর ধারা থেকে সরে এসে যেভাবে ‘পথের দাবী’ লিখেছিলেন, একজন শিল্পীর জীবনে সেই বাঁক বদল কতটা ঐতিহাসিক ও প্রাসঙ্গিক, তা এই ছবির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন তিনি। ছবিতে সব্যসাচী মল্লিকের চরিত্রে আবির চট্টোপাধ্যায় এবং অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় টোটা রায়চৌধুরীর মতো তারকারা অভিনয় করেছেন।
বর্তমান সমাজের আয়না ও নতুনের ছোঁয়া
ছবির পটভূমি অতীত হলেও এর বার্তার প্রাসঙ্গিকতা বর্তমানের সঙ্গেও মিলে যায় বলে মনে করেন পরিচালক। তাঁর কথায়, ক্ষমতার বিরুদ্ধে কথা বললে কণ্ঠরোধ করার প্রবণতা বা কোনো সৃষ্টিকে নিষিদ্ধ করার সংস্কৃতি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে, যা আজও সমানভাবে সত্য। এছাড়া এই ছবির মাধ্যমে অভিনয়ে ডেবিউ করছেন জনপ্রিয় ছোটপর্দার মুখ দিব্যাণী। সব মিলিয়ে মিউজিক টিম থেকে কাস্টিং—সর্বত্রই এক ঝাঁক নতুন প্রতিভাকে সুযোগ দিয়ে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন হাওয়া আনার চেষ্টা করেছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়। আগামী ১৫ অক্টোবর বড় পর্দায় মুক্তি পেতে চলা এই ছবি দর্শকদের কতটা মন জয় করে, এখন সেটাই দেখার!