খোদ স্বামীর বাইকে আগুন! বিজেপি নেতাকে খুনের ছক কষতেই গ্রেপ্তার স্ত্রীসহ ৬, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

সাধারণ একটি অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়েই বেরিয়ে এল এক রোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিজের মোটরসাইকেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক বিজেপি নেতা থানায় এফআইআর দায়ের করলেও, সেই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ যা আবিষ্কার করল, তাতে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। অন্ধ্রপ্রদেশের এই ঘটনায় বিজেপি নেতার নিজের স্ত্রীকেই স্বামীকে খুনের ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কী ঘটেছিল ঘটনাটি?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশের বিজেপি মণ্ডল সভাপতি মুনিরাজু গত ১৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি ছিল, কে বা কারা তাঁর মোটরসাইকেলটি পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সম্পত্তির ক্ষতির মামলা রুজু করে তদন্তে নামে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে রাজনৈতিক শত্রুতা বা অন্য কোনো কারণে এই নাশকতার চেষ্টা হয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছিল।
তদন্তে মোড় ঘোরাল সিসিটিভি ও টেকনিক্যাল এভিডেন্স
ঘটনার গভীরে যেতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং বিভিন্ন টেকনিক্যাল তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখতে শুরু করেন তদন্তকারীরা। এর পরই সাই, উদয় কিরণ, লীলা কৃষ্ণ, পৃথ্বীরাজ এবং হরিশ—এই পাঁচ যুবককে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করে পুলিশ। জেরায় ওই পাঁচ জন বিজেপি নেতার বাইকে আগুন লাগানোর কথা স্বীকারও করে নেয়।
তদন্তকারীদের চোখ কপালে তুলল চাঞ্চল্যকর সত্য
ধৃতদের জেরা করার সময়ই আসল রহস্য ফাঁস হয়। ওই পাঁচ জন পুলিশকে জানায় যে, এই পুরো চক্রান্তের মূল মাথা বা নেপথ্যে রয়েছেন খোদ বিজেপি নেতার স্ত্রী প্রশান্থী! তদন্তে জানা যায়, নিজের স্বামী মুনিরাজুকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন প্রশান্থী নিজেই। আর সেই বৃহত্তর ছকেরই প্রথম ধাপ ছিল বাইকে আগুন লাগানোর ঘটনা।
পুলিশের তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, ধৃতদের মধ্যে সাই নামের এক যুবকের সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল ওই নারীর। স্বামীর গতিবিধি, তাঁর রুটিন এবং বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য ওই যুবকের কাছে পাচার করতেন প্রশান্থী। এমনকি, মুনিরাজুর ওপর প্রাণঘাতী হামলার ছক কষতে ধৃতদের সঙ্গে একাধিকবার গোপন বৈঠকও করেছিলেন তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত বড় কোনো অঘটন ঘটার আগেই পুলিশ পুরো চক্রটিকে ধরে ফেলে।
এই ঘটনায় বিজেপি নেতার স্ত্রী প্রশান্থীকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত মোট ৬ জনকেই আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এক রাজনৈতিক নেতার পরিবারে এমন চাঞ্চল্যকর ব্লু-প্রিন্ট ফাঁসের ঘটনায় এলাকায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে।