শপথের পরেই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ শুভেন্দু অধিকারীর! কার্শিয়াংয়ে কোন বড় বার্তার অপেক্ষায় পাহাড়?

রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো পাহাড় সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কার্শিয়াংয়ে প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক—দুই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতেই আজ তাঁর সরব উপস্থিতি থাকবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে পাহাড়ের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অন্দরেও তীব্র কৌতূহল ও প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের সফর কেবল একটি রুটিন ভিজিট নয়, বরং উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পাহাড়ের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধানের যে জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এই সফর তার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল। সম্প্রতি পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের মিরিক সফরের সময় গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে স্লোগান উঠেছিল, যা পাহাড়ের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে পুনরায় সামনে এনেছিল। স্বভাবতই আজকের সফরে মুখ্যমন্ত্রী পাহাড় সমস্যার সমাধান ও উন্নয়নের প্রশ্নে কী বার্তা দেন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, পূর্ববর্তী সরকার উত্তরবঙ্গকে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার করেছিল। কিন্তু বর্তমান মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গের ১১ জন প্রতিনিধিকে স্থান দেওয়া হয়েছে, যা পাহাড় ও উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রতি বর্তমান সরকারের অটল প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় ক্ষেত্রেই বিজেপি সরকার থাকায় পাহাড়ের সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং উন্নয়নের গতি বহুগুণ বাড়বে বলে বিশ্বাস স্থানীয়দের। এই প্রত্যাশার ফলেই পাহাড়ের তিনটি বিধানসভা আসন বিজেপির ঝুলিতে এসেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার সকালে চার্টার্ড বিমানে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। এরপর হেলিকপ্টারে কার্শিয়াংয়ের চাঁদমারি হেলিপ্যাডে যাওয়ার কথা থাকলেও, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রতিকূলতার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূল না থাকলে তিনি রোহিণী রোড ধরে সড়কপথেই কার্শিয়াং পৌঁছাবেন।

সকাল ১১টায় কার্শিয়াংয়ের মন্টেভিয়েট ময়দানে বিজেপির একটি জনসভায় অংশ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, সেখান থেকে তিনি পাহাড়বাসীর উদ্দেশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো বার্তা দিতে পারেন। সভার পরেই তিনি গোথেলস মেমোরিয়াল স্কুলে আয়োজিত সরকারি জনকল্যাণ শিবিরে যোগ দেবেন। বিভিন্ন প্রকল্পের উপভোক্তাদের হাতে সুবিধা তুলে দেওয়ার পাশাপাশি একাধিক প্রশাসনিক বৈঠকেও তাঁর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত জোরদার করা হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কার্শিয়াং শহর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় যান চলাচলে কড়া নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে। এখন দেখার, পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি মুখ্যমন্ত্রী কতটা ইতিবাচক সাড়া দেন।