শত্রুতা কি তবে শেষ? বিয়ের আসরে হাসি-ঠাট্টায় মাতলেন কল্যাণ-মহুয়া! ভাইরাল ছবি ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে

রাজনীতিতে চিরস্থায়ী শত্রু বা বন্ধু বলে কিছু হয় না— এই প্রবাদটিই যেন ফের প্রমাণিত হল তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষের মেয়ের বিয়ের আসরে। যে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মহুয়া মৈত্রর আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্কের কথা বাংলার রাজনৈতিক মহলে ওপেন সিক্রেট, তাঁদেরই রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় দেখা গেল একেবারে ভিন্ন মেজাজে। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একাধিক ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কল্যাণ ও মহুয়া কেবল এক ফ্রেমে নেই, বরং দিব্যি খোশগল্পে মজেছেন। অথচ গত বছরও পরিস্থিতি ছিল ঠিক উল্টো। রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডে তৃণমূলের পার্টি অফিসের সামনে মহুয়াকে দেখে কল্যাণ সোজাসুজি বলে উঠেছিলেন, “কার মুখ দেখলাম, আজ দিনটাই গেল…!”

পাল্টা তোপ দাগতে ছাড়েননি কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও। কসবা কলেজের ঘটনার প্রেক্ষিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে বিঁধে তাঁকে ‘নারীবিদ্বেষী’ তকমা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু রবিবার রাতে সেই সব তিক্ততা যেন কর্পূরের মতো উবে গেল। সাগরিকা ঘোষের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রায় ৯০ শতাংশ ছবিতে কল্যাণের পাশেই দেখা গিয়েছে মহুয়াকে। কখনও দুজনে হাসিমুখে ছবি তুলছেন, কখনও বা যাওয়ার পথে একে অপরের দিকে তাকিয়ে সৌজন্য বিনিময় করছেন।

তৃণমূলেরই একাংশের মতে, দলের এই দুই হেভিওয়েট সাংসদ সম্ভবত তাঁদের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়েছেন। এই অভূতপূর্ব ছবি দেখে হতবাক খোদ দলের নেতা-কর্মীরাই। যে সম্পর্কের সমীকরণ এতদিন ছিল কেবল আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণের, সেখানে এই ‘খোশমেজাজ’ কি আগামী দিনে দলের অন্দরে নতুন কোনও সমীকরণ তৈরি করবে? আপাতত এই ‘অপরিচিত’ রাজনৈতিক অধ্যায় নিয়েই উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty