মাধ্যমিকে ‘পাখি পড়ানোর’ মতো উত্তর বলে দিচ্ছেন শিক্ষক! মালদহের স্কুলে হুলুস্থুল, কড়া অ্যাকশনে পর্ষদ

চলতি মাধ্যমিক পরীক্ষায় এক নজিরবিহীন ও ভয়ঙ্কর অনিয়মের সাক্ষী থাকল মালদহের মথুরাপুর বিএসএস হাইস্কুল। নিজের ডিউটি ফেলে অন্য রুমে গিয়ে পড়ুয়াদের উত্তর বলে দেওয়ার অভিযোগে মালদহের ওই স্কুলের শিক্ষক সনওয়ার আলি পরভেজকে সাসপেন্ড করল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। শুধু সনওয়ারই নন, একই ধরনের গুরুতর অভিযোগে রাজ্য জুড়ে মোট ৯ জন শিক্ষককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পর্ষদের সাফ কথা— অনিয়ম করলে পড়ুয়াদের যেমন পরীক্ষা বাতিলের বিধান আছে, শিক্ষকদেরও কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
মালদহের ওই স্কুলের ঘটনাক্রম যেন কোনও সিনেমার দৃশ্য। অভিযোগ অনুযায়ী, সনওয়ার আলি নিজের নির্দিষ্ট হল ছেড়ে পাশের রুমে ঢুকে পড়েন। সেখানে একটি অতিরিক্ত উত্তরপত্র বা লুজ শিট তুলে নিয়ে দ্রুত নিজের বিষয়ের প্রশ্নের উত্তরগুলি লিখে ফেলেন। এরপর শুরু হয় সেই ভয়ঙ্কর ‘সহযোগিতা’। শিক্ষক নিজেই ওই লেখা দেখে চিৎকার করে পড়ুয়াদের উত্তর বলে দিতে থাকেন, যেন ক্লাসে পাখি পড়াচ্ছেন! গোটা বিষয়টি পর্ষদের নজরে আসতেই শোরগোল পড়ে যায়।
পর্ষদ সূত্রে খবর, স্কুলেরই কেউ একজন চুপিচুপি ওই শিক্ষকের কুকীর্তির ছবি ও ভিডিও তুলে পর্ষদকে পাঠিয়ে দেন। প্রমাণ হাতে পেতেই আর দেরি করেনি প্রশাসন। সনওয়ার আলি সহ আরও আট শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই রকম দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় তাঁদের সকলকেই তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করা হয়েছে। মাধ্যমিকের মতো বড় পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পর্ষদের এই কড়া পদক্ষেপ শিক্ষা মহলে এক বড় বার্তা দিল। অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে।