শক্তিশালী চ্যালেঞ্জ, একের পর এক ফ্লাইট বাতিলের পর কর্মীদের কাছে ক্ষমা চাইলেন IndiGo CEO, কেন এমন বিপর্যয়?

দেশের প্রধান শহরগুলিতে ব্যাপক ফ্লাইট বাতিলের ফলে সৃষ্ট বড় ধরনের বিমান পরিষেবা বিঘ্নের জন্য ইন্ডিগো (IndiGo) এয়ারলাইন্সের সিইও পিটার এলবার্স অভ্যন্তরীণ চিঠিতে কর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে এই সংকটের কারণে ইন্ডিগো যাত্রী ও কর্মীদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।

কর্মীদের উদ্দেশ্যে লেখা সেই চিঠির বিষয় ছিল “স্ট্রংগার টুগেদার” (Stronger Together), যেখানে যাত্রীদের ভোগান্তির কথা স্বীকার করা হয়েছে।

পিটার এলবার্স লিখেছেন:

“প্রিয় ইন্ডিগো সহকর্মীরা, বিগত কয়েক দিন আমাদের অনেক গ্রাহক এবং সহকর্মীর জন্য কঠিন ছিল। আমরা প্রতিদিন প্রায় ৩,৮০,০০০ গ্রাহককে পরিষেবা দিই এবং আমরা চাই তাদের প্রত্যেকের একটি ভালো অভিজ্ঞতা হোক। কিন্তু বিগত দিনগুলিতে ইন্ডিগো সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেনি।”

তিনি জানান, এই সংকটের জন্য এয়ারলাইন্সটি প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছে।

বিপর্যয়ের কারণ: ‘অপারেশনাল চ্যালেঞ্জ’

পিটার এলবার্স ফ্লাইট বাতিলের পিছনে একাধিক কারণকে দায়ী করেছেন:

  • প্রযুক্তিগত সমস্যা: সামান্য প্রযুক্তিগত ত্রুটি।

  • সময়সূচীর পরিবর্তন: ফ্লাইট সময়সূচীর পরিবর্তন।

  • প্রতিকূল আবহাওয়া: খারাপ আবহাওয়া।

  • বিমান চলাচলের ভিড়: এভিয়েশন ইকোসিস্টেমে ব্যাপক ভিড়।

  • নতুন FDTL নিয়ম: সদ্য প্রকাশিত ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিট (FDTL) নিয়ম কার্যকর করা।

সিইও ব্যাখ্যা করেন, এই সমস্ত ‘অপারেশনাল চ্যালেঞ্জ’-এর সম্মিলিত প্রভাবের ফলে একটি ক্যাসকেডিং প্রভাব তৈরি হয়েছে, যা ইন্ডিগোর পরিষেবাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

‘গ্রাহকদের উদ্বেগ আমরা অনুভব করছি’

সিইও বলেন, “আমরা আমাদের গ্রাহকদের উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তা গভীরভাবে অনুভব করছি। আমরা সক্রিয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি এবং তাদের অসুবিধা লাঘব করার জন্য সম্ভাব্য সব উপায়ে সহায়তা করছি।”

তিনি স্বীকার করেছেন যে ইন্ডিগোর নেটওয়ার্কের আকার, স্কেল এবং জটিলতার কারণে, এই ধরনের সমস্যাগুলি দ্রুত বড় আকার ধারণ করে এবং একাধিক স্তরে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়।

লক্ষ্য: পরিষেবা স্বাভাবিক করা

এলবার্স কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন এবং বলেছেন যে এয়ারলাইন্সের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হলো পরিষেবা স্বাভাবিক করা এবং আগামী দিনগুলিতে সময়ানুবর্তিতা ফিরিয়ে আনা। তিনি এও স্বীকার করেছেন যে এটি “সহজ লক্ষ্য নয়”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, কিছুদিন আগে যেভাবে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে ২০০টি বিমান (A320s) আপগ্রেড করার মতো অকল্পনীয় কাজ টিম ইন্ডিগো সম্পন্ন করেছিল, সেভাবেই তারা এই চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করবে। তিনি আশ্বাস দেন, “আমরা একসঙ্গে এই চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠব এবং আরও শক্তিশালী হয়ে উঠব।”

এদিকে, ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA) ইন্ডিগোর এই সংকটের বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে সময়সীমা বেঁধে একটি সমাধান চেয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy