ল্যান্ডিংয়ের সময় যান্ত্রিক গোলযোগ, অজিত পাওয়ারের চার্টার বিমানে কে কে ছিলেন?

ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক অপূরণীয় শূন্যতা। বুধবার সকালে পুণে জেলার বারামতি বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা প্রবীণ রাজনীতিক অজিত পাওয়ার। একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মুম্বই থেকে বারামতির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, বিমানে থাকা ২ পাইলট-সহ মোট ৫ জন আরোহীর কেউই বেঁচে নেই।

দুর্ঘটনার কারণ ও বিশদ বিবরণ: অজিত পাওয়ার সফর করছিলেন ভিএসআর পরিচালিত লিয়ারজেট-৪৫ (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: VT-SSK) বিমানে। বিমানটি চালাচ্ছিলেন অভিজ্ঞ ক্যাপ্টেন সাহিল মদন এবং ক্যাপ্টেন যশ। বারামতি গ্রামীণ পুলিশের সুপার সন্দীপ সিং জানান, ল্যান্ডিং করার ঠিক আগের মুহূর্তে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আছড়ে পড়ে। যান্ত্রিক ত্রুটির ফলেই এই বিপর্যয় বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।

ধ্বংসস্তূপের প্রথম দৃশ্য: প্রকাশ্যে আসা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বারামতির একটি খোলা মাঠে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে বিমানের ধ্বংসাবশেষ। ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে চারদিক। উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থল থেকে তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। বাকিদের শনাক্তকরণের কাজ চলছে। বিমানে অজিত পাওয়ারের সঙ্গে ছিলেন তাঁর একজন পিএসও এবং একজন অ্যাটেনডেন্ট।

রাজনীতিতে শোকের ছায়া: এই মর্মান্তিক খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। ঘটনার খবর পেয়েই দিল্লির সমস্ত কর্মসূচি বাতিল করে বারামতির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন শরদ পাওয়ারের কন্যা সুপ্রিয়া সুলে। মহারাষ্ট্রের রাজনীতির অন্যতম স্তম্ভ অজিত পাওয়ারের এই প্রয়াণ আসন্ন নির্বাচনে এক বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিমানের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA)।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy