ল্যান্ডিংয়ের পরেই চরম আতঙ্ক! বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেল যাত্রীবাহী বিমান!

রানওয়ে পেরিয়ে বিমান তখন সফলভাবে অবতরণ করার পর পার্কিং বে-র দিকে ধীরগতিতে এগোচ্ছিল। যাত্রীদের মনেও তখন গন্তব্যে পৌঁছানোর স্বস্তির মুহূর্ত। ঠিক সেই সময়ই ঘটে গেল এক অপ্রত্যাশিত ও আতঙ্কজনক ঘটনা! পার্কিংয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে বিমানবন্দরের একটি ভারী ধাতব খুঁটির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খেল একটি ইন্ডিগো বিমান। মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল পুরো পরিস্থিতি। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, বড়সড় বিমান দুর্ঘটনার হাত থেকে শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাওয়া গেছে এবং বিমানে থাকা সমস্ত যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছেন। কারোরই কোনো আঘাত লাগার খবর পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকালে শ্রীনগর বিমানবন্দরে। নবি মুম্বই থেকে যাত্রীদের নিয়ে শ্রীনগরগামী ইন্ডিগোর 6E 225 ফ্লাইটটি (রেজিস্ট্রেশন নম্বর VT-NOG) সকাল আনুমানিক ৯টা বেজে ২ মিনিটে ৬ নম্বর পার্কিং বে-তে প্রবেশ করছিল। সেই সময় ভিসুয়াল ডকিং গাইডেন্স সিস্টেম বা VDGS-এর একটি ধাতব খুঁটির সঙ্গে বিমানটির সংঘাত ঘটে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই আকস্মিক দুর্ঘটনার কথা স্বীকার করেছে। সংঘর্ষের তীব্রতায় ঘটনাস্থলে থাকা ধাতব খুঁটিটি সম্পূর্ণ বেঁকে যায় এবং বিমানটির সামনের অংশেও কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কার ভুলে বিমানটি নির্ধারিত পথ থেকে সরে গিয়ে খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খেল, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

ধাক্কার পরপরই চরম আতঙ্ক এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে স্বাভাবিক জেট ব্রিজের পরিবর্তে ম্যানুয়াল এয়ারক্রাফ্ট সিঁড়ি ব্যবহার করে সমস্ত যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের নিরাপদে বিমান থেকে নিচে নামিয়ে আনা হয়। এরপর তাঁদের সুশৃঙ্খলভাবে টার্মিনাল ভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা চিত্র ও ঘটনাস্থলের পারিপার্শ্বিক দৃশ্য দেখে স্পষ্ট বোঝা যায় যে ধাক্কাটি যথেষ্ট জোরালো ছিল। তবে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার জেরে শ্রীনগর বিমানবন্দরের সামগ্রিক বিমান পরিষেবা বা শিডিউলে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। অন্যান্য সমস্ত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ওঠানামা করেছে এবং আগমন-বহির্গমন পরিষেবা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।

বর্তমানে তদন্তকারীদের মূল ফোকাস রয়েছে পার্কিংয়ের ওই সংকটময় মুহূর্তে ঠিক কী ঘটেছিল তা উদ্ঘাটন করার ওপর। বিমানের গতিবেগ, গ্রাউন্ড অপারেশন টিমের ভূমিকা, পার্কিং গাইডেন্স সিস্টেম এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত নিরাপত্তা প্রোটোকল নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির ফল নাকি মানবীয় ভুল, তা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট করা সম্ভব নয়। দুর্ঘটনার পর বিমানটির প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের কাজও শুরু হয়েছে। শ্রীনগরের এই ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে মনে করিয়ে দিল যে বিমান চলাচলের শেষ ধাপ অর্থাৎ পার্কিংয়ের মতো সাধারণ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও সামান্যতম অসতর্কতার কোনো অবকাশ নেই।