বর্তমান যুগে বাড়ি, গাড়ি কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে লোন নেওয়াটা সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু জীবন অনিশ্চিত। যদি কোনো লোনগ্রহীতা ঋণ সম্পূর্ণ শোধ করার আগেই মারা যান, তবে সেই পাহাড়প্রমাণ ঋণের বোঝা কি তার পরিবারের ওপর চেপে বসে? এই প্রশ্নটি বহু মানুষকে দুশ্চিন্তায় রাখে। তবে ব্যাঙ্কিং আইন এবং বিমার সুরক্ষা কবচ জানলে এই দুশ্চিন্তা অনেকটাই লাঘব হতে পারে।
বিমার সুরক্ষা কবচ: বর্তমানে অধিকাংশ বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক লোন দেওয়ার সময় ‘লোন ইন্স্যুরেন্স’ (Loan Insurance) করার পরামর্শ দেয়। এটি একটি বিশেষ সুরক্ষা কবচ। যদি ঋণ চলাকালীন লোনগ্রহীতার মৃত্যু হয়, তবে ওই বিমা সংস্থাই বাকি ঋণের সম্পূর্ণ টাকা ব্যাঙ্ককে মিটিয়ে দেয়। এর ফলে মৃত ব্যক্তির পরিবারকে একটি টাকাও শোধ করতে হয় না এবং ঋণের দায়ে ঘরবাড়ি হারানোর ভয় থাকে না।
টার্ম ইন্স্যুরেন্সের ভূমিকা: যদি কারো লোন ইন্স্যুরেন্স না-ও থাকে, তবে তার যদি একটি সাধারণ ‘টার্ম লাইফ ইন্স্যুরেন্স’ (Term Insurance) করা থাকে, তাহলেও পরিবার সুরক্ষিত থাকে। বিমা সংস্থা থেকে পাওয়া এককালীন মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে পরিবার সহজেই বকেয়া ঋণ শোধ করে দিতে পারে। এতে পরিবারের ভবিষ্যৎ এবং সম্পত্তি— দুই-ই নিরাপদ থাকে।
লোন যদি বিমাহীন হয়? সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন ঋণের বিপরীতে কোনো বিমা থাকে না। ব্যক্তিগত ঋণের (Personal Loan) ক্ষেত্রে সাধারণত উত্তরাধিকারীদের ওপর দায় চাপে না, তবে হোম লোন বা কার লোনের মতো ‘সিকিউরড লোন’-এর ক্ষেত্রে যদি কেউ গ্যারান্টার বা কো-অ্যাপ্লিকেন্ট থাকেন, তবে দায়ভার তার ওপর বর্তায়। অন্যথায়, ঋণ আদায়ের জন্য ব্যাঙ্ক বন্ধক রাখা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পথে হাঁটতে পারে।
প্রয়োজনীয় সতর্কতা: বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো বড় লোন নেওয়ার সময় অবশ্যই তার সাথে একটি বিমা পলিসি করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে আপনার অনুপস্থিতিতেও প্রিয়জনেরা ঋণের জালে জড়িয়ে পড়বে না।
ব্যাঙ্কিং এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ খবর এবং খুঁটিনাটি তথ্য পেতে আজই ফলো করুন ডেইলিয়ান্ট। খবরটি শেয়ার করে বন্ধুদের এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি জানান।





