বুধবার এক নজিরবিহীন নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল লোকসভা। বিকেল ৫টায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য রাখার কথা থাকলেও বিরোধী শিবিরের মহিলা সাংসদদের প্রবল বিক্ষোভের মুখে তা বাতিল করতে হলো। প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানের অপ্রকাশিত বইয়ের বিতর্কিত অংশ এবং আট কংগ্রেস সাংসদের সাসপেনশন ইস্যুকে কেন্দ্র করে এদিন রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সংসদের নিম্নকক্ষ।
এদিন বিকেল ৫টা বাজার আগেই বিরোধী শিবিরের একদল মহিলা সাংসদ প্রধানমন্ত্রীর আসন ঘিরে ফেলেন। তাঁদের হাতে ছিল পোস্টার, যাতে লেখা ছিল— ‘যা ঠিক মনে হয় করো’ (নারাভানের বইতে উল্লিখিত প্রধানমন্ত্রীর সেই বিতর্কিত মন্তব্য)। গতকালই রাহুল গান্ধিকে বাধা দেওয়া এবং আটজন কংগ্রেস সাংসদকে গোটা অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করার প্রতিবাদে এদিন সুর চড়ান বিরোধীরা। চিনের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাত নিয়ে আলোচনার দাবিও ওঠে। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে, স্পিকারের আসনে থাকা সন্ধ্যা রাই অধিবেশন স্থগিত করে দিতে বাধ্য হন।
বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারি এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, কংগ্রেসের মহিলা সাংসদরা মারপিটের অভিপ্রায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন। কিরেণ রিজিজুর তৎপরতায় বড় কোনও দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে, রাহুল গান্ধির অভিযোগ, আমেরিকাকে তুষ্ট করতে এবং চিনের বিষয় চাপা দিতেই বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। বারংবার হট্টগোলের জেরে বুধবারের মতো লোকসভা স্থগিত ঘোষণা করা হয়।