লালু-রাবড়ির নিরাপত্তা নিয়ে নাটকীয় মোড়, সরকার দিল ‘জেড’ ক্যাটাগরি, ক্ষোভে ফুটছে আরজেডি!

বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আরজেডি সুপ্রিমো লালু প্রসাদ যাদব এবং রাবড়ি দেবীর নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। গত মাসে তাঁদের ‘জেড প্লাস’ (Z+) নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় রদবদল আনল বিহার সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে এখন থেকে ‘জেড’ (Z) ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে গত কয়েকদিন ধরে বিহারের রাজনীতি উত্তাল ছিল। এর আগে নিরাপত্তার বহর কমিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে লালু পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে লোকসভা সাংসদ মিসা ভারতী এবং বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব নিজেদের সরকারি নিরাপত্তা ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার পটনার ১০ নম্বর সার্কুলার রোডের দীর্ঘদিনের সরকারি বাসভবনটি খালি করে দেন রাবড়ি দেবী। উল্লেখ্য, প্রায় দুই দশক ধরে এই বাসভবনটি ছিল লালু পরিবারের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। বাসভবন ছাড়ার দিনেই রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বিশেষ বিভাগ নিরাপত্তার এই নতুন বিন্যাসের কথা ঘোষণা করে।

নতুন এই নিরাপত্তা পরিকাঠামোয় লালু ও রাবড়ি—উভয়কেই বুলেটপ্রুফ গাড়ি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, তাঁদের কনভয়ে ২২ জন নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন থাকবেন। এর মধ্যে ৪ থেকে ৬ জন সিআরপিএফ (CRPF) কমান্ডো এবং রাস্তাঘাটে যাতায়াতের জন্য সশস্ত্র এসকর্ট রাখা হবে। তবে এই নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিবার। অতীতে যখন তাঁদের ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা ছিল, তখন ৩৬ জন নিরাপত্তা কর্মী এবং ১০ জন সিআরপিএফ কমান্ডো সবসময় তাঁদের সঙ্গে থাকতেন।

বর্তমানে লালু পরিবারের সদস্যরা তাঁদের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন বাড়ি কৌটিল্য নগরে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তবে আরজেডি নেতৃত্বের দাবি, সরকারের কাছ থেকে নিরাপত্তার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বার্তা তাঁরা পাননি। এমনকি, নতুন ঠিকানায় এখনও কোনও নিরাপত্তা রক্ষী এসে পৌঁছায়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এই পরিস্থিতিকে ‘রাজনৈতিক তামাশা’ বলে অভিহিত করেছেন আরজেডি-র রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র চিত্তরঞ্জন গগন। তিনি সরাসরি বিহারের বিজেপি সরকারকে নিশানা করে বলেন, “রাজ্য সরকার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে রসিকতা করছে। আসলে কর্মসংস্থান, মূল্যবৃদ্ধি এবং অপরাধের মতো জ্বলন্ত সমস্যাগুলি থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই সরকার এই ধরনের কৌশলী পদক্ষেপ নিচ্ছে।”

লালু পরিবার এখন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে নাকি তা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে। একদিকে সরকারি বাসভবন ত্যাগ, অন্যদিকে নতুন নিরাপত্তা নিয়ে দড়ি টানাটানি—সব মিলিয়ে বিহারের রাজনীতিতে এই ঘটনা যে আগামী দিনে আরও বড় বিবাদের জন্ম দিতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।