লালু পরিবারের জন্য চরম আইনি সংকট! আইআরসিটিসি অর্থ পাচার মামলায় কাল আদালতে হাজিরা দেবেন লালু, রাবড়ি ও তেজস্বী

বিহারের রাজনীতিতে ফের এক বড় আইনি ঝড়ের পূর্বাভাস। আইআরসিটিসি অর্থ পাচার (Money Laundering) মামলায় শনিবার দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ আদালতে ব্যক্তিগতভাবে হাজিরা দেওয়ার কথা রয়েছে রাষ্ট্রীয় জনতা দল (RJD) সুপ্রিমো লালু প্রসাদ যাদব, রাবড়ি দেবী এবং তেজস্বী যাদবের। ইতিমধ্যেই এই মামলার শুনানির জন্য লালু প্রসাদ যাদব এবং রাবড়ি দেবী পাটনা থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। গত ১০ সেপ্টেম্বর এই মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় একটি বড় মোড় এসেছিল, যা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ঠিক কী হয়েছিল ১০ সেপ্টেম্বরের রায়ে?
গত ১০ সেপ্টেম্বর দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ আদালত এই মামলার মোট ১৬ জন অভিযুক্তের মধ্য থেকে ৯ জনের বিরুদ্ধে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর ধারায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে প্রমাণের অভাবে বা অন্য কারণে ৭ জন অভিযুক্তকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি বা খালাস দেওয়া হয়।
যে ৯ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন লালু প্রসাদ যাদব, রাবড়ি দেবী, তেজস্বী যাদব, প্রেমচাঁদ গুপ্ত, সরলা গুপ্ত, সুজাতা হোটেলস, লারা প্রজেক্টস এবং দুই বিশিষ্ট হোটেল ব্যবসায়ী বিনয় কোচার ও বিজয় কোচার। এই নির্দেশ জারির পরই মামলাটি এখন বিচারের মূল ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
কী এই বিতর্কিত আইআরসিটিসি মামলা?
২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত লালু প্রসাদ যাদব দেশের রেলমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে রাঁচি ও পুরীর দুটি আইআরসিটিসি রেলওয়ে হোটেলের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার চুক্তি দেওয়া হয়েছিল। সিবিআই এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলির মূল অভিযোগ, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নিয়মবহির্ভূত কারসাজি ও প্রভাব খাটিয়ে এই চুক্তিগুলি ‘সুজাতা হোটেলস’ নামক সংস্থাকে পাইয়ে দেওয়া হয়। এর বিনিময়ে একটি বেনামি বা আড়ালে থাকা কোম্পানির মাধ্যমে পাটনায় অত্যন্ত কম মূল্যে বা ছদ্মবেশে বিশাল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও নথিপত্র খতিয়ে দেখে যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে স্পষ্ট সন্দেহ তৈরি হয়। এর মধ্যে রয়েছে পাটনায় জমি হাতবদল, লারা প্রজেক্টস বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির গঠন, অভিষেক ফাইন্যান্সের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন এবং পরবর্তীতে ডিএমসিপিএল-এর শেয়ারহোল্ডিং প্যাটার্নে পরিবর্তন এনে রাবড়ি দেবী ও তেজস্বী যাদবের নামে শেয়ার হস্তান্তর। আগামীকালের আদালতে এই হেভিওয়েট পরিবারের হাজিরা এবং পরবর্তী আইনি লড়ায়ের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহল।