চাষাবাদে লোকসানের চিন্তা ভুলে যান! এই ৫টি গাছের ব্যবসায়ে রাতারাতি ভাগ্য বদলের দারুণ সুযোগ

কৃষিকাজ মানেই যে প্রতি বছর নিশ্চিত আয়, এমনটা সবসময় হয় না। আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা কিংবা ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ার কারণে অনেক সময়ই বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় কৃষকদের। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হিসেবে জমির একটা অংশে লাভজনক গাছ লাগানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সঠিক পরিকল্পনা করে গাছ লাগাতে পারলে আগামী দিনে তা থেকে লাখ লাখ, এমনকি কোটি টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। বাজারে কোন কোন গাছের চাহিদা সবচেয়ে বেশি এবং কীভাবে মিলবে এর সুফল, তা একনজরে দেখে নেওয়া যাক।
১. পপলার গাছ (Poplar): প্লাইউড ও কাঠভিত্তিক শিল্পে পপলার কাঠের চাহিদা সবসময়ই তুঙ্গে। বাজার দর অনুযায়ী প্রতি কুইন্টাল কাঠ প্রায় ১,৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। একটি ভালো মাপের পপলার গাছ থেকে প্রায় ৭ থেকে ১০ কুইন্টাল কাঠ পাওয়া সম্ভব। সবচেয়ে বড় কথা, এই গাছ পরিপক্ক হতে সময় নেয় মাত্র ৫ থেকে ৭ বছর।
২. মালাবার নিম (Malabar Neem): কম সময়ে লাভের মুখ দেখতে মালাবার নিমের চাষও দারুণ এক বিকল্প। বাজারে এর ভালো চাহিদা রয়েছে এবং প্রতি কুইন্টাল কাঠের দাম প্রায় ৭০০ টাকার ওপরে। পপলারের মতো এই গাছটিও ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে কাটার উপযোগী হয়ে ওঠে।
৩. ইউক্যালিপটাস (Eucalyptus): খুব দ্রুত বর্ধনশীল গাছ হিসেবে পরিচিত ইউক্যালিপটাস। খুব কম খরচে এর চাষ করা সম্ভব। প্রায় ৫ বছরে একটি পূর্ণাঙ্গ গাছ থেকে প্রায় ৪০০ কেজি কাঠ পাওয়া যায়। সঠিক বাজার দর ও পরিচর্যা পেলে এই গাছ থেকেও ভালো অঙ্কের টাকা আয় করা যায়।
৪ ও ৫. শিশম, শাল ও সেগুন (Sheesham, Sal & Teak): যদি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের পরিকল্পনা থাকে, তবে শিশম, শাল বা সেগুনের জুড়ি মেলা ভার। এই গাছগুলি বড় হতে ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত সময় নিতে পারে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এদের দাম বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালোভাবে বেড়ে ওঠা একটি সেগুন বা শাল গাছ থেকে ৫ থেকে ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। তবে বড় পরিসরে এই ধরনের বৃক্ষরোপণ শুরু করার আগে বন বা কৃষি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।