লালকেল্লা কাঁপতেই ঘুম ছুটেছে মুঘল বধূর! হাওড়ায় বসে সুলতানা বেগমের কড়া বার্তা, ‘দায় সরকারের’

সোমবার সন্ধ্যায় ঐতিহাসিক লালকেল্লার অদূরে গাড়ি-বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় রীতিমতো উদ্বিগ্ন মুঘলদের শেষ সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের বংশধর সুলতানা বেগম। বর্তমানে হাওড়ায় বসবাসকারী সুলতানা বেগম মঙ্গলবার বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লালকেল্লার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং সরকারের দায়বদ্ধতার ওপর জোর দিয়েছেন।
মুঘল বংশের বধূ সুলতানা বেগম বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও দিল্লিতে বিস্ফোরণের খবর শুনে তিনি রীতিমতো চিন্তিত। তিনি বলেন, ‘‘দিল্লির ঘটনার কথা আমি শুনেছি, শোনার পরে খুব খারাপ লেগেছে।’’
ঐতিহাসিক সৌধের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ: মুঘলদের আমলে তৈরি লালকেল্লা বর্তমানে সরকারি সম্পত্তি হলেও এই সৌধ নিয়ে সুলতানা বেগমের আবেগ অনেক। তাঁর মতে, লালকেল্লাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করার পরিকল্পনা ছিল দুষ্কৃতীদের। তিনি বলেন, লালকেল্লা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকারের ক্ষতি হবে, কারণ এটি ভারতের অন্যতম পরিচয়। দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকরা এই সৌধ দেখতে আসেন।
সুলতানা বেগমের কথায়, “যা কিছু ঘটছে, তার সম্পূর্ণ দায় সরকারের। দায়িত্ব সরকারেরই হওয়া উচিত, যাতে তারা জায়গাটিকে ভালোভাবে রক্ষা করে, ভুল থেকে শিক্ষা নেয়, আর যেন এমন ঘটনা আর না-ঘটে।”
তিনি মনে করিয়ে দেন, “লালকেল্লা, জামা মসজিদ, মিনা বাজার, আগ্রার তাজমহল, ফতেপুর সিক্রি, সবই তো মুঘলদের সৃষ্টি। এগুলো শুধু আমাদের নয়, গোটা দেশের ঐতিহ্য। মুঘল হোক বা সরকার, এই জায়গাগুলো তো হিন্দুস্তানের পরিচয়।”
অপরাধীদের কড়া শাস্তির দাবি: দিল্লির এই ঘটনায় যুক্তদের কড়া শাস্তির দাবি জানিয়ে সুলতানা বেগম বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কেউ এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস না দেখায়, তার জন্য অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
নিজের পরিচয় প্রসঙ্গে সুলতানা বেগম জানান, একসময় তাঁদের দেখতে মানুষ অনুমতি নিত, কিন্তু আজ তিনি একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করেন। তিনি বলেন, “না আছে টাকা, না আছে শক্তি। লড়েছি অনেক, কিন্তু ফল কিছুই পাইনি।” যদিও সরকার তাঁকে মুঘলের বংশধর হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং তিনি পেনশন পান বলেও জানান।